হাসান রেজা : অর্থ সঙ্কটের কারণে সঠিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছে না কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)। অথচ বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জানা গেছে, প্রতিবছর যে সামান্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় তার সিংহভাগই ব্যয় হয় সরকারি নানা কর্মসূচি ও আনুষ্ঠানিকতায়। ফলে প্রচার ও প্রকাশনায় ন্যূনতম ব্যয় চালাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মাত্র ৪০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে এআইএসকে। পূর্বের বছরের ১৫ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় এ অর্থবছরে বাকি মাত্র ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করা যাবে। এক বছরে সরকারি বিভিন্ন আচার আনুষ্ঠানিকতায় ব্যয় ধরা হলে কোন টাকা আর থাকে না। ফলে প্রচার ও প্রকাশনায় সংবাদপত্র ও মিডিয়ার জন্য কোন টাকা বর্তমানে অবশিষ্ট থাকে না। এই বাস্তবতায় এআইএস সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
কৃষি প্রধান বাংলাদেশে কৃষি সমৃদ্ধিতে প্রচার ও প্রকাশনা খাতের এই বেহাল অবস্থায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে অর্থনীতির চালিকা শক্তি কৃষি। কোন কারণে কৃষি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন সমৃদ্ধিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষি বিষয়ক প্রচার ও প্রকাশনা কৃষি উন্নয়নের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, যেখানে সরকার দেশের স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে প্রচার প্রকাশনায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোকে কোটি কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয় সেখানে দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি কৃষি উন্নয়নে কৃষির প্রচার ও প্রকাশনায় মাত্র ২০/৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া কোনো বিবেচক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। তাদের মতে, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারকে দেশ ও জাতির স্বার্থে কৃষি বিষয়ক প্রচার ও প্রকাশনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত ফান্ড বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন।
অর্থ সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. মোশারফ হোসেন দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ‘সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠালে যৌক্তিকতা বিচার করে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে’।
এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও উপকরণ) মো. নাসিরুজ্জামান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, নতুন প্রকল্প গৃহীত হলে অর্থ সংকটের সুরাহা হবে।

