ঢাকাSunday , 22 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৃত্তিকা সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কৃষক সেবায় বাস্তবায়িত হচ্ছে বিভিন্ন কার্যক্রম

Link Copied!

SRDIহাসান রেজা : মৃত্তিকা সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাসহ কৃষকের চাহিদামতো বিভিন্ন সেবা নিশ্চিতকরণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)’র মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কৃষক সেবা প্রকল্প বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটির কার্যক্রমের ফলে দেশের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকসহ কৃষি সংশ্লিষ্টরা যেমন ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পর্কিত সঠিক ও সুষ্ঠু ধারণা পাবেন তেমনি এর ফলে ফসল উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৃত্তিকার উর্বরতা পরিবীক্ষণ, উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততার গবেষণা ও পরিবীক্ষণ, পাহাড়ি এলাকার মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও জলবিভাজিকা ব্যবস্থপনা সংক্রান্ত গবেষণা, সয়েল হেলথ কার্ড কর্মসূচি, তথ্য সংরক্ষণ ও প্রসার কার্যক্রমরে লক্ষ্যে ২০১২ সালের জুলাই মাস হতে মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কৃষক সেবা প্রকল্পটি কার্যক্রম শুরু করে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার মৃত্তিকা ও ভূমির তথ্য উপাত্ত সৃজন এবং উপজেলা ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা নবায়ন এবং বাস্তবায়ন প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য। এ ছাড়া, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে মৃত্তিকা ও শস্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত প্রযুক্তি হস্তান্তরেও কাজ করছে প্রকল্পটি। পাশাপাশি, এসআরডিআই’র প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানসহ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য মানব সম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রম, গবেষণা ও বিশ্লেষণ কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ, ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদের ইনভেন্টরি তৈরিকরণেও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে প্রকল্পটি।
প্রকল্প পরিচালক মো. মকবুল হোসেন দৈনিক পাঞ্জেরীকে জানান, এসআরডিআই ১৯৮৫ সাল থেকে  সারা দেশে ভূমির আধা-বিস্তারিত জরিপ কর্মসূচি শুরু করে। ২০০২ সাল পর্যন্ত এ জরিপের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে ৪৬০টি উপজেলা ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সময়ের ব্যবধানে যেহেতু মৃত্তিকার পুষ্টিমান পরিবর্তন হয় সেহেতু এসব তথ্যের হালনাগাদ করা প্রয়োজন। ইতোপূর্বে ৮৭টি উপজেলা নির্দেশিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আরো ৯০টি উপজেলা নির্দেশিকা হালনাগাদকরণসহ ৪০০টি ইউনিয়ন সহায়িকা ও ৪০০টি ফেস্টুন প্রস্তুত করা হবে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৭৬টি উপজেলা জরিপকার্য সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আরও ১৪টি উপজেলা জরিপকার্য সম্পন্ন হবে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।
প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষক ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (এসএএও) প্রশিক্ষণ, সুষম সার ব্যবহার বিষয়ক  প্রশিক্ষণ এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যা মানব সম্পদ উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত ডিএই’র ২শ’ জন ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ৯শ’ জন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের ৫ দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং  ৯শ’ জন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা বিষয়ক ২ দিনের রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি মোট ৭ হাজার ৯শ’ ৫০ জন কৃষক/ইউআইএসসি এন্টারপ্রেনিউর্সকে মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহার বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া, প্রকল্পটি এসআরডিআই’র গবেষণাগারসমূহের কর্মকর্তাগণের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মানব সম্পদ উন্নয়নেও যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাগারসমূহের ৩০ জন কর্মকর্তাকে দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া, কারিগরি কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে ৮০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে; এর মাধ্যমে কর্মকর্তারা আকাশচিত্র বিশ্লেষণ করে সয়েল ইন্টারপ্রিটেটিভ ম্যাপ প্রস্তুত করেন। এ ছাড়া, ১শ’ জন কর্মচারির দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন মৌসুমে ১৪০টি ব্লক প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রদর্শনী প্লটে গড়ে ২০ শতাংশ ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে।  প্রদর্শনীগুলোতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের মাঝে জমির মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ প্রাধান্য দেয়া হয়। এর ফলে কৃষকরা পরবর্তী ফসলে মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সার প্রয়োগ করার পক্ষে মতামত দেন। এ ছাড়া, প্রকল্প এলাকায় মোট ১২০টি কৃষকদিবস উদযাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী ৯টি কারিগরি কর্মশালাসহ দু’টি বার্ষিক কারিগরি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
নবায়নকৃত ৭০টি ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা, ৩শ’ মাটি ও সার সুপারিশ সহায়িকার মুদ্রণ এবং একই সংখ্যক ইউনিয়ন সহায়িকা ছাপা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক চাহিদার প্রেক্ষিত ১৮ হাজার ২শ’ ৫০ কপি সরেজমিনে ভেজাল সার শনাক্তকরণের পদ্ধতি সম্বলিত পুস্তিকা, কি টু সয়েল সিরিজ মৃত্তিকা দল পরিচিতি পুণঃমুদ্রণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, এসআরডিআই’র গবেষণাগারে ব্যবহারের জন্য বিভিন যন্ত্রপাতিও ক্রয় করা হয়েছে প্রকল্পটির মাধ্যমে।