নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে একক ভাবে অংশ নিতে প্রস্ততি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এজন্য দলের নির্বাহী পরিষদের দুইজন সদস্যকে দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে দলটির নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। কিন্তু তারা স্বতন্ত্র অথবা সমমনা কোনো ইসলামি দলের প্রতীকে প্রার্থী হবেন বলে জামায়াতের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দলীয় সূত্র জানা গেছে, আসন্ন পৌরসভার নির্বাচনে অংশ নিতে মেয়র প্রার্থীদের তালিকা যাচাই বাছাই শুরু করেছে জামায়াত। আর এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল ও মাওলানা আবদুল হালিমকে। এই নির্বাচনের তারা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট পৌর এলাকার থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। তবে প্রকাশ্যে তৎপরতা চালাতে না পারছে না। কারণ দেশব্যাপী জামায়াত-শিবির গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। নেতাকর্মীরা নিজ এলাকায় থাকতে পারছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের শীর্ষ একজন নেতা জানান, আসন্ন পৌর নির্বাচরে সবগুলোতে প্রার্থী না দিয়ে অন্তত জয়ের সম্ভাবনা আছে এমন প্রায় ৫০ পৌরসভায় প্রার্থীর তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও চট্টগ্রামে বিভাগের ৩৯টি পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত জামায়াত।
জামাতের এই নেতা আরও জানিয়েছেন, রংপুর বিভাগের ২০ পৌরসভার ১০টি হচ্ছে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধার গাইবান্ধা, গোবিন্দগঞ্জ ও সুন্দরগঞ্জ; দিনাজপুরের রানীশংকৈল, বীরগঞ্জ; নীলফামারীর জলঢাকা, পঞ্চগড়, রংপুরের বদরগঞ্জ এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম; রাজশাহী বিভাগের ৫০ পৌরসভার ১৪টি হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জ; বগুড়ার শেরপুর, কাহালু, নন্দীগ্রাম ও শিবগঞ্জ; রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর, কাটাখালী ও চারঘাট; সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ ও বেলকুচি এবং পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর। খুলনার ৩২ পৌরসভার মধ্যে ১১টি হচ্ছে কুষ্টিয়ার সদর ও মিরপুর, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর, সাতক্ষীরার কলারোয়া ও সাতক্ষীরা, যশোরের চৌগাছা ও কেশবপুর; খুলনার পাইকগাছা, মেহেরপুর ও জীবননগর; চট্টগ্রামের ৩৯ পৌরসভার মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও সীতাকুণ্ড; সিলেটের ১৭ পৌরসভার মধ্যে জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও গোলাপগঞ্জ মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু পৌরসভার প্রার্থী বাছাই চলছে। এসব পৌরসভায় বিএনপিকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ওই সূত্র জানায়, নির্বাচনে অংশ নেয়ার মূল উদ্দেশ্য নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা। প্রায় সব পর্যায়ের নেতা কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে আছেন। নির্বাচনকে উপলক্ষ করে মাঠ পর্যায়ে কিছু কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাবে।
সরকার জাময়াতকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে ধরপাকড় শুরু করেছে অভিযোগ করে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর চলমান অভিযানে জামায়াত-শিবিরের পাঁচ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা চায় না পৌরসভা নির্বাচনে বিরোধী দল অংশগ্রহণ করুক।
এদিকে যেহেতু জামায়াতের নিবন্ধর হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত রয়েছে সেহেতু তারা দলীয় প্রতীক নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত দলগুলোর নেতাকর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ আছে।
২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা দেয়। এর বিরুদ্ধে জামায়াত আপিল করলেও, পৌর নির্বাচনের আগে এ ইস্যুর চূড়ান্ত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

