কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলার হোসেনপুরে এ বছর লাউসহ বিভিন্ন সবজির ব্যাপক চাষ হয়েছে। সবজি চাষ করে কয়েক হাজার কৃষক স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই আজ লাখপতি।
সরজমিনে গত শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মওসুমে বিভিন্ন প্রকার সবজির বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকরা খুব খুশি। এ সময় স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও নরসুন্দার চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জের মাটির গুণের কারণে লাউসহ সবজি চাষের জন্য অধিকতর উপযোগী হওয়ায় বিগত ৮-১০ বছর ধরে এসব এলাকায় সবজির আবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে খেটে থাওয়া মানুষের আর্থিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়েছে ব্যাপক। সবজি চাষ করে বহু কৃষক পরিবার আজ স্বাবলম্বী।
উপজেলার সাহেবের চর গ্রামের কৃষক গোলাপ মিয়া, চর-জিনারী গ্রামের কৃষক আলাল উদ্দিন, গোবিন্দপুর গ্রামের আবুল কালমসহ অনেকেই জানান, বিগত সময়ে চরাঞ্চলের কৃষকরা বালুমিশ্রিত জমিতে মিষ্ঠি আলু, মাসকলাই ও বাদাম ছাড়া অন্য কোনো ফসল উৎপাদনের চিন্তা করতো না। বর্তমানে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব এলাকায় ধান, পাট, লাউ, কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে প্রতিটি কৃষকই তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। হোসেনপুরের সর্বত্রই এখন অর্থকরি ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লাউসহ বিভিন্ন সবজি। কৃষকের উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করছে।
উপজেলার চর-কাওনা গ্রামের আল-মামুন, পুমদি গ্রামের আজিজুলসহ অনেকেই জানান,পরিশ্রম করে সবজি উৎপাদন করলেও লাভের বেশিরভাগ অংশ চলে যায় এক শ্রেণীর ফরিয়াদের পকেটে। সবজি সংরক্ষণের জন্য হোসেনপুরে কোনো হিমাগার না থাকায় ক্ষেত থেকে সবজি তোলার পরপরই কৃষকরা পচঁনের আশঙ্কায় দ্রুত কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়।
উপজেলার চর জামাইল গ্রামের কৃষক ছিদ্দিক মিয়া জানান, বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেড়িয়ে এবার লাউয়ের বাম্পার ফলন ও মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধুমাত্র লাউ বিক্রি করে আয় করেছেন প্রায় দুই লাখ টাকা। তার মতো উপজেলার রহিমপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম, চর-হাজীপুর গ্রামের মফিজ উদ্দীন, দাপুনিয়ার মুস্তাক আহমেদ, উত্তর গোবিন্দপুরের দেলুয়ার হোসেনসহ কয়েকশত কৃষক সবজি চাষে লাখপতি হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি অনেকেই অন্য ফসল বাদ দিয়ে লাউসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুলতান আহম্মেদ জানান, এ বছর লাউ, আলু, কপিসহ বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে সংরক্ষণ সংকটে কৃষকরা উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তিনি এ এলাকায় একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

