নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাযখন জাতীয়-আন্তর্জাতিক শত ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবেলা করে দেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অপশক্তিরা সেই অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে নতুন চক্রান্তে নেমেছেন। খালেদা জিয়ার পায়ের নিচে মাটি না থাকায় বিদেশে পালিয়ে গিয়ে কুলাঙ্গার পুত্রকে নিয়ে দেশধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত। তারা বিদেশিসহ দেশে গুপ্তহত্যা করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।
রোববার রাতে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন।
এর আগে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার (আইটিইউ) আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতিক্রমে ধন্যবাদ জানায় জাতীয় সংসদ। পুরস্কার অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে কার্যপ্রণালী ১৪৭ বিধির আওতায় সংসদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
রাত সাড়ে ১০টায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়। প্রস্তাবটি পাসের পর সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।
ধন্যবাদ প্রস্তাবটির ওপর প্রায় পৌণে তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, সরকারি দলের অধ্যাপক আলী আশরাফ, আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, আবদুল মতিন খসরু, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ড. হাছান মাহমুদ, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, আবুল কালাম আজাদ, সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলি, তাজুল ইসলাম, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, মনিরুল ইসলাম, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, সাবিনা আক্তার তুহিন, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফারাজী এবং জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন হাওলাদার ও ফখরুল ইমাম।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দুটি বিরল পুরস্কার অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শুধু এ দুটি বিষয়েই নয়, জাতিসংঘে যদি পরিবেশ ও নারীর অগ্রাধিকার বিষয়ে কোন পুরস্কার থাকতো- সেগুলোও বিশ্বের মধ্যে একমাত্র আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পেত। কারণ তিনি বাংলাদেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, শেখ হাসিনা শুধু এ অঞ্চলের নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ১৯ বার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্ব দরবারে তিনি একজন নন্দিত নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে সারাবিশ্বে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এ দেশকে বিশ্বাস করে না, তারাই দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করতে নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই তার অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করতে পারবে না।
সরকারি দলের সিনিয়র নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। খালেদা জিয়ার পায়ের চেয়ে মাটি নেই, তাই দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে কুলাঙ্গার সন্তানকে নিয়ে দেশকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশে কোনো আইএস নেই, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে আইএস আছে। তাই সব ষড়যন্ত্রের বিচার দেশের মাটিতেই হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক বিশ্বে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত জোট প্রায় এক বছর নাশকতা, সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যা করেও দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে করতে পারেনি। বাংলাদেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যাবে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা বিনির্মাণ করবোই।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জলবায়ু যুদ্ধে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশ কীভাবে টিকে আছে, সেটি দেখতে আজ গোটা বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা আসছেন, খোঁজ নিচ্ছেন। জনগণের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কোন শক্তিই তার অগ্রযাত্রাকে ঠেকাতে পারবে না। কোন অপশক্তি-চক্রান্তকারীদের কাছে দেশের মানুষ কখনোই মাথা নিচু করবে না।
জাতীয় পার্টি- জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আজকে পৃথিবীতে যে কয়টি সমস্যা সবচেয়ে আলোচিত হয় তার মধ্যে পরিবেশগত সমস্যা অন্যতম। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলায় নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, যা সারাবিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। তাই আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে যে পুরস্কার ও প্রশংসা দেয়া হয়েছে, তার জন্য আমরা সকলে গর্বিত।
জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬টি বছর ধরে দেশের কল্যাণ, শান্তি, অগ্রগতি ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যারা দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছেন তাদের প্রতি অনুরোধ, দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীকে আরও কিছু সময় দেয়া প্রয়োজন।
জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, ফ্রান্সে হামলার পর পৃথিবী পাল্টে গেছে। জোর করে নিজেদের মত কারোর ওপর চাপিয়ে দেয়া যায় না, এ ঘটনার পর বিশ্বকে শিক্ষা নিতে হবে। পুরো যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ আজ কাঁদছে, তারা সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করতে পারছে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শক্ত হাতে সন্ত্রাসবাদ দমন করে বিপদসঙ্কুল নদীতে নৌকা চালিয়ে যাচ্ছেন।

