ঢাকাSunday , 15 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পৌর নির্বাচন: প্রার্থীদের কৌশলী প্রচারণা

Link Copied!

dhakurgaoঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সরব হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁও পৌর নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নানামুখী কৌশলে প্রচারণা শুরু করেছেন।
সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা পৌর নাগরিকদের মন জয়ের চেষ্টায় তৎপর। আওয়ামী লীগ, বিএনপির একাধিক নেতার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বসে নেই। নিমন্ত্রণ-দাওয়াত বাদ দিচ্ছেন না কেউ। প্রতিটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ভিড় করেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি সমর্থকদের দিয়ে ডিজিটাল পোস্টার, ব্যানার টানানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পেজ-গ্রুপ খুলে কৌশলী প্রচারণায় নেমেছেন প্রায় সবাই। শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে অনেকে তাদের প্রার্থিতা হওয়ার বিষয়টি সাধারণ ভোটারের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন।
অনেকেই ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙ্গিয়ে পৌরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দোয়া কামনা করছেন। এদিকে দেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয় নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে আয়োজনের আইন পাস হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। অনেক প্রার্থী এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছেন। আবার অনেক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় নিজ নিজ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে লবিং শুরু করেছেন।
শীর্ষ নেতাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এবার দলীয় প্রতীকে প্রার্থী মনোনয়ন হওয়াই বিদ্রোহী হওয়ার সুযোগ না থাকায় সব দলের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। নেতাদের মতে, এবার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারের মন জয় করতে মাঠে নেমে পড়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
এবার ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নির্বাচনী মাঠে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে ৪ জন মনোনয়ন পাওয়ার জন্য লবিং শুরু করেছেন। অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় প্রাথমিকভাবে তার ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনের সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘোষণা কথা শোনা যাচ্ছে।
অপরদিকে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার চৌধুরী রঞ্জু গোপনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সরকারি সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও বিএনপি নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এর বিরোধিতা করছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শুরুতে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। বৃদ্ধি পাবে মনোনয়ন বাণিজ্য। তারপরও বসে নেই উভয় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে নিজ নিজ দলের শীর্ষ পর্যায়ে লবিং শুরু করেছেন। এ নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। দল থেকে কাকে সমর্থন দেয়া হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা।
নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এসএমএ মঈন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন বাবু, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ আপেল, বর্তমান প্যানেল মেয়র বাবলুর রহমান বাবলু ও বিএনপির সহ-সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, গোলাম সারোয়ার চৌধুরী রঞ্জু কৌশলে নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে পৌরসভার জনসাধারণের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লায় সভা ও উঠান বৈঠক করে বেড়াচ্ছেন। বাজারের চায়ের দোকানগুলোতে এখনই গভীর রাত পর্যন্ত কে প্রার্থী হচ্ছেন, কে প্রার্থী হলে ভালো হবে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করছেন।
দলের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের চারজন প্রার্থিতার কারণে দলের মধ্যে গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হবে। তারা প্রার্থী হলে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
পৌর এলাকার বাসিন্দা আহম্মেদ হোসেন জানান, আওয়ামী লীগ থেকে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী তাদের মধ্যে বর্তমান মেয়র এসএমএ মঈনের রিজার্ভ ভোট ছাড়া অন্য প্রার্থীদের নেই। তাই বর্তমান মেয়রকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে আবারও বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে আওয়ামী লীগ।
পৌর শহরের টিকাপাড়া এলাকার শাহাজাহান হোসেন জানান, আওয়ামী লীগের ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে জনমতে এগিয়ে আছে তরুণ নেতা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল মজিদ আপেলের। কারণ জেলা আওয়ামী লীগের নানা গ্রুপিংয়ের মাঝে শহরের অসহায় মানুষ তার কাছে যায় যেকোনো সমস্যা সমাধানে। তাকে পৌর মেয়র নির্বাচিত করলে ঠাকুরগাঁও পৌর সভার সকল সমস্যা ও গরিবের সেবা হবে।
সিরাজুল ইসলাম নামে হাজিপাড়া মহল্লার এক বাসিন্দা জানান, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনের আমেজ ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি থেকে একজনের নাম শুনা যাচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ থেকে ৪ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপির সহ-সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের জন্য যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ আপেলের লড়াই হবে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৈমুর রহমান বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে খালি মাঠে গোল করতে দেব না। পৌর নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা হবে দলীয় বিবেচনায়। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। এ আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলে বিএনপির রাজনীতি আবারও চাঙ্গা করে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়ে সরকারকে অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি করা হবে।’
অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ সাদেক কুরাইশী বলেন, ‘দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে কোনো কারচুপির সম্ভাবনা থাকবে না। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের মতো পৌরসভা নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হবে। এ বছর থেকে দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে নির্বাচন হবার ফলে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। ফলে দল আরো বেশি সু-সংগঠিত হবে।’
দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাই তার পক্ষেই কাজ করবে। ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় অতীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এবারও বিজয়ী হবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, ইতোমধ্যে পৌর নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা মাঠ পর্যায়ে চলছে। বিগত নির্বাচনে তৃণমূল নেতাকর্মীরদের মূল্যায়ন করায় এ পৌরসভাটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিল।
বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ থাকবে। সেই সুবাদে দলের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থন গ্রহণ করে দলীয় প্রার্থিতা নির্বাচন করে মনোনয়ন দিবে বলে তাদের প্রত্যাশা। তা না হলে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের থাকা এ পৌরসভাটি হাতছাড়া হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।