ভোলা প্রতিনিধি : জেলার লালমোহন উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করার ১৮ দিন যেতে না যেতেই নতুন করে কমিটি গঠন করেছে হাফিজ বিরোধী গ্রুপ। এ ঘটনার পর এলাকায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ফের চরম আকার ধারণ করেছে। নতুন করে দুই গ্রুপে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।
শুক্রবার সকালে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে বিএনপির হাফিজবিরোধী গ্রুপ তাদের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা ও পৌর কমিটি ঘোষণা করেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন- হাফিজবিরোধী গ্রুপের বিএনপির সভাপতি আনিচল হক মিয়া। বক্তব্য দেন- লালমোহন লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দল সভাপতি কামাল মেম্বার, চরভুতা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুল কালাম, রমাগঞ্জ ইউপি মেম্বার তোফায়েল আহম্মদ, সদর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা বশির উদ্দিন, চরভুতা ইউনিয়ন যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম ও আলাউদ্দিন প্রমুখ।
বিএনপির সভাপতি আনিচল হক মিয়া বলেন, ‘গত ৪ বছর আগে মেজর হাফিজ তার চাচাতো ভাই মার্শাল হিমুকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করে এবং বিভিন্ন পদ ও পদবিতে আত্মীয়-স্বজন বসিয়ে কৌশলে পকেট কমিটি করেন। সেই কমিটির মেয়াদ গত বছর শেষ হয়। কিন্তু এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কমিটি পূর্ণগঠনের জন্য কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থাকলেও মেজর হাফিজ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আবারও সেই পকেট কমিটি করেন। ভোলায় বসে করা এ কমিটিতে নির্যাতিত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের রাখাতো দুরের কথা কাউকে জানানো পর্যন্ত হয়নি। চুপে চুপে করা এ কমিটিতে এবার আত্মীয়তার পাল্লা আরও ভারি করেছেন মেজর হাফিজ। এ অবস্থায় আমরা বরিশাল বিভাগীয় নেতা শাজাহান সাহেবের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে এ কমিটি করতে বাধ্য হয়েছি।’
অপর দিকে মেজর হাফিজ গ্রুপের লালমোহন উপজেলা বিএনপির সম্পাদক মার্শাল হিমু বলেন, ‘যারা এ কমিটি ঘোষণা করেছে তারা বিএনপির কেউ না। গত কয়েক বছর আগে বিএনপি থেকে তাদের সদস্য পদও হারিয়েছে। সরকার দলের পরামর্শে বিএনপিকে ভাঙার জন্য তারা এসব করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য,গত ২৭ অক্টোবর ভোলা জেলা বিএনপি অফিসে মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করে। ওই সময়ই বিএনপির অনেক নেতারা মেজর হাফিজের কমিটিকে পকেট কমিটি বলে প্রত্যাখান করে প্রতিবাদ জানান।

