কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলার হোসেনপুরে পৌরসভা নির্বাচনে প্রচার প্রচারণা জমে ওঠেছে। অনেকেই দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে নিজ নিজ দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। সেইসঙ্গে রুটিনমাফিক ভোটারদের বাড়ি বাড়ি নারীকর্মী নিয়ে দৌড়-ঝাঁপে ব্যস্ত রয়েছেন।
মেয়র কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরামহীন গণসংযোগ চায়ের দোকান থেকে প্রত্যন্ত মাঠ-ঘাট সরগমের পাশাপাশি শুভেচ্ছা পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে অলিগলি। ভোটারদের মনজয় করতে ইতোমধ্যে প্রার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যোগদানসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সূত্র মতে, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে হোসেনপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হন বিএনপির নেতা মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। সে সময় আ.লীগ প্রার্থী আব্দুল কাইযুম খোকন পরাজিত হওয়ার পর থেকে কাজ করছে এবার মেয়র পদটি ফিরে পেতে।
অপরদিকে, বিএনপি চাচ্ছে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে। তাই দু’দলেই নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে আগাম নির্বাচনী গণসংযোগের পাশাপাশি ভোটারদের দিচ্ছে না লোভনীয় প্রতিশ্রুতি। ফলে পৌর এলাকার সর্বত্রই নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। এবার আসন্ন পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৪ জন, বিএনপির ৩ জন ও জামায়াতের ১ জন,স্বতন্ত্র ১ জন মেয়র প্রার্থীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী গণসংযোগ করছেন। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ফুরফুরে মেজাজে মাঠ-ঘাটে অপেক্ষাকৃত বেশি দৌড়ে বেড়ালেও কিছুটা প্রতিকুল রাজনৈতিক অবস্থার কারণে বিএনপি জামায়াতের প্রার্থীরা তাদের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে, জামায়াত মেয়রসহ ২-৩ জন কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও দলীয় প্রার্থীতার বিষয়ে আ.লীগ ও বিএনপি এখনো একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। আ.লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও জেলা আ.লীগ সদস্য মো. আব্দুল কাইয়ুম খোকন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ সৈয়দ হোসেন হাছু, সাবেক ভিপি রাইসুল হাসান কেনেডি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কাদির স্বপন।
বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন জেলা বিএনপির সদস্য ও বিশিষ্ট দানবীর সোরহাব উদ্দিন ভেন্ডার, বর্তমান মেয়র ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও বিএনপি নেতা আনোয়ার আলী (মৃদা)।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. মানিক মিয়া ও জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে অধ্যাপক নরুল হকের নাম। তবে জামায়াত নেতাদের ভাষ্য হল দলীয় পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা দেখা দিলে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী দিতে পারেন।
আ.লীগ নেতারা একক প্রার্থী নির্বাচনে একাট্টা থাকলেও বিএনপি নেতারা একক প্রার্থী নির্বাচনে হিমশিম খাচ্ছে। তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মবিন ও তথ্য গবেষণা সম্পাদক মো. নবী হোসেন জানান, পৌর নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনে হাইকমান্ড থেকে সিদ্ধান্ত পেলে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী দিতে সচেষ্ট থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে হোসেনপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর এটি দ্বিতীয় নির্বাচন। গতবার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ছিল ১৩ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিল ৭ হাজার ৫৩ জন এবং নারী ৬ হাজার ৯৬৫ জন। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ ভোটার কত হবে তা স্থানীয় নির্বাচন অফিস সঠিক পরিসংখ্যান না দিলেও ভোটার সংখ্যা ১৫-২০ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে ভোটার হিসাব যাই হউক যদি বড় দুই দলেই একক প্রার্থী দিতে সক্ষম হয় তবে লড়াই হবে বিএনপি-আ.লীগের হাড্ডাহাড্ডি।

