নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে’ সরকার তার বিরুদ্ধে লাগাতার মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে অভিযোগ করেছে লন্ডন বিএনপি।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির তীব্র নিন্দা জানিয়ে নেতারা বলেন, ‘এসব করে এ অবৈধ শাসন ব্যবস্থাকে দীর্ঘায়িত করা যাবে না।’
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে রোববার পূর্ব লন্ডনের স্কুল অব কমার্স অ্যান্ড আইটি অডিটরিয়ামে এক আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম যুক্তরাজ্য শাখা এর আয়োজন করে।
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিন্দা ও অপপ্রচারের মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম লুৎফুর রহমান শিশির এ আদেশ দেন।
গত বছরের ১৯ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার নথিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনের ইয়র্ক হলের এক সভায় জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন তারেক রহমান, যা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এছাড়া, বঙ্গবন্ধুর নামেও কটূক্তি করেন তারেক রহমান। বঙ্গবন্ধুকে ‘পাকবন্ধু’ বলা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে বিকৃত করার সামিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ গণতন্ত্র, বিচার ও ন্যায়-নীতিহীন ফ্যাসিস্ট সরকারের করায়াত্বে। ন্যায়বিচারহীন সমাজ ব্যবস্থার কারণে মানুষ আর এখন বিচারও চায় না। জোর-জবরদস্তি করে একটি অনির্বাচিত সরকার জগদ্দল পাথরের মতো মানুষের ওপর চেপে বসেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে আজ সময় এসেছে আরো একটি ৭ নভেম্বরের।’
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে’র তাৎপর্য তুলে ধরে লন্ডন বিএনপির নেতারা আরো বলেন, ‘৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্য ও জাগরণের প্রতীক। জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষের দিন। সিপাহি জনতার কালজয়ী এ বিপ্লব চির জাগরুক থাকবে। গণতন্ত্রহীন আজকের বাংলাদেশে এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে।’
আয়োজন সংগঠনের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার তারেক বিন আজিজের সভাপতিত্বে এবং ব্যারিস্টার হামিদুল হক লিটনের পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সহকারি প্রেস সচিব সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ, প্রাক্তন ছাত্রনেতা নসরুল্লাহ খান জোনায়েদ, স্বেচ্ছাসেবক দল যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি নাসির আহমেদ শাহিন, সলিসিটর মো. একরামুল হক মজুমদার, ব্যারিস্টার আলিমুল হক লিটন, অ্যাডডভোকেট আবুল হাসনাত, ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আলম চৌধুরী, অ্যাডডভোকেট আলী আকবর কাদের, অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী, ব্যারিস্টার সোহরাব হোসেন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল তোহা প্রমুখ।

