মেহেরপুর প্রতিনিধি : জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে আগাম শীতকালীন শাক-সবজি উঠতে শুরু করেছে। চাহিদা ভালো থাকায় দামও পাচ্ছেন কৃষকরা। তাই উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সবজি তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সবজি উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে মেহেরপুর অন্যতম। এ জেলার কৃষকরা সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। তবে বর্ষায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পানি জমে গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে লোকসানে পড়েন কৃষকরা। পরে লোকসান পোষাতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেন অনেকে। এতে ফলনও ভালো হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন মাঠে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, শিম, পটল, পালংশাক ও লালশাকসহ নানা জাতের শীতকালীন আগাম সবজির সমারোহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার তিনটি উপজেলায় (সদর, মুজিবনগর, গাংনী) প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ করা হয়েছে। এখানকার সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা থাকায় কাঙ্খিত দামও পাচ্ছেন কৃষকরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের কৃষক রহেল আমিন এবার চার বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও ফুলকপির চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি জমির বাঁধাকপি ৭০ হাজার টাকা ও ফুলকপি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এতে বিঘাপ্রতি তার ৪০-৫০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।
সাহারবাটি বাজারের আড়তদার হাশেম আলী বলেন, ‘পাইকারিতে বাঁধাকপি প্রতি পিস ২০ টাকা, ফুলকপি ২২ ও করলা প্রতি কেজি ২০ টাকা, পটোল ২০, শিম ৪০, মিষ্টি কুমড়া ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি পিস লাউ ১০-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
এদিকে দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। আর একটু দাম কমলেই সব ধরণের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসবে বলে জানান তারা।
মেহেরেপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কেননা এ সময় সবজির ব্যাপক চাহিদা থাকে। তবে শীতকালে প্রচুর পরিমাণে সবজি বাজারে আসায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন কৃষকরা। এ কারণে সারা বছর সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

