লাইফস্টাইল ডেস্ক : সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ আর নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতিকে পেছনে ফেলে জাপান নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে পরিনত করেছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার শীর্ষে পৌঁছেছে এই দেশটি। আপনি যদি বিদেশে পড়াশুনা করতে চান, জাপান হতে পারে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
সুন্দর, পরিচ্ছন্ন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী দেশটি হতে পারে আপনার উচ্চশিক্ষার জন্য একটি আদর্শ দেশ। জাপানের জনগণ পরিশ্রমী এবং মানবীয় গুণের অধিকারী। এতো সব সুযোগ থাকার কারণে বিদেশিদের পড়াশুনার জন্য একটি উত্তম জায়গা হতে পারে জাপান।
প্রতিবছর বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে পড়তে যায়। পশ্চাত্যের দেশগুলোর চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই জাপান। বাংলাদেশ থেকে যারা জাপানে পড়তে যান তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনো স্কলারশিপ বা ফান্ড নিয়েই পড়তে যায়। ভাষার উপর দক্ষতা থাকলে সুযোগটি আপনিও পেতে পারেন।
জাপানের বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার ভাষা জাপানি হলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ইংরেজি মাধ্যমেও পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানে পড়াশোনার আগে সে দেশের ভাষা শিখে নিতে পরামর্শ দেয়া হয় দেশটির উচ্চশিক্ষা-বিষয়ক বিভিন্ন সাইটে। শুধু ভাষা শিক্ষার উপরেও অনেক স্কলারশিপের ব্যাবস্থা আছে, জাপানিজ দূতাবাসের ওয়েবসাইটে গেলেই এসবের খোঁজ মেলে। জেএলপিটি বা জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি টেস্টে অংশ নিয়ে ভালো ফলাফল করলে জাপান সরকারের পক্ষ থেকেই পড়াশুনার জন্য আমন্ত্রন পেয়ে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তাই দেশের বাইরে স্কলারশিপসহ পড়াশুনা করতে চাইলে জাপানিজ ভাষা নিশ্চিন্তে বেঁছে নিতে পারেন।
পড়াশুনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ কিংবা পড়াশুনা শেষে স্থায়ীভাবে বসাবসের জন্যও জাপান অনেক সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমানে জাপানে জনসংখ্যা হ্রাসের ফলে কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তাদের দরকার প্রচুর দক্ষ, শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ জনবল। কিন্তু জাপানের কর্মবাজারে বিদেশি হিসেবে প্রবেশের অন্যতম শর্ত জাপানিজ ভাষা জানা। আমরা এই সুযোগকে সহজেই কাজে লাগাতে পারি জাপানিজ ভাষা শিখে। পড়াশোনা ছাড়া প্রফেশনাল হিসাবেও জাপানে গিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে। এছাড়াও দেশে বিভিন্ন জাপানিজ প্রতিষ্ঠান ও দূতাবাসে দোভাষী ও অনুবাদক হিসেবে কাজ করার সুযোগ তো আছেই।
অনেকের কাছেই জাপানিজ ভাষা খুব কঠিন লাগে, হিজিবিজি সব অক্ষর, বোঝাই দুস্কর। আসলেই কিন্তু বিষয়টা মোটেও তা নয়, ভাষাগত দিক চিন্তা করলে জাপানিজ মোটামুটি সহজ একটি ভাষা এবং অনেক নিয়মতান্ত্রিক। বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে বেশ সহজ লাগতে পারে, কেননা বাক্যের গঠনে জাপানিজের সঙ্গে বাংলার শতকরা ৮০ ভাগ মিল আছে। তাছাড়া জাপানি ভাষার ব্যাকরণ অনেক নিয়মতান্ত্রিক, তাই এটি আয়ত্ত করাও তুলনামুলক ভাবে সহজ।
সরকারি, বেসরকারি সব মিলিয়ে জাপানে ৭০০-এর মতো বিশ্ববিদ্যালয় আছে। জাপানের ডিগ্রি এশিয়া তো বটেই, সারাবিশ্বেই সমাদৃত। জাপানে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য ৫ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এগুলো হলো বিশ্ববিদ্যালয়, গ্র্যাজুয়েট স্কুলস, জুনিয়র কলেজ, স্পেশাল ট্রেনিং কলেজ ও কলেজ অফ টেকনোলজি। ব্যাচেলরস প্রোগ্রামে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৪ বছর লাগে। তবে মেডিকেল সায়েন্সে লাগে ৬ বছর। মাস্টার্স প্রোগ্রামে ২ বছর ও ডক্টরস প্রোগ্রামে ৩ বছর, সব মিলিয়ে ৫ বছরের মতো সময় লাগতে পারে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া সহজ কিন্তু ভিসা পাওয়া খুবই কঠিন। এ দেশটিতে ঠিক এর উল্টো ব্যাপারটিই ঘটে থাকে। এখানে ভর্তি হওয়া গেলে সহজেই ভিসা পাওয়া যায়। এ জন্য জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির আবেদনের সময় খুবই সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যেন এতে থাকে, সব তথ্যও যেন সঠিক থাকে, সে বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।
জাপানে ভিসা পাওয়া খুব একটা ঝামেলার কাজ হবে না, যদি ঠিকঠাকমতো সেদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন। কোনো নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলে তো কথাই নেই। এজন্য ভালো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়াটাই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। জাপানে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য ভিসা-সংক্রান্ত তথ্য ও আবেদনের জন্য যোগাযোগ করতে হবে জাপান দূতাবাসে। জাপান দূতাবাস, দূতাবাস সড়ক, বারিধারা, ঢাকা। ওয়েবসাইটেও (www.bd.emb-japan.go.jp/ en/education/index.html) । জাপানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য জানতে পারবেন অনলাইনে।

