ঢাকাMonday , 12 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাল্টা চাষে ইসমাইল হাসে

Link Copied!

নিজের মাল্টা বাগানে ইসমাইল হোসেন

নিজের মাল্টা বাগানে ইসমাইল হোসেন

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলার ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত জেলা মেহেরপুর। মুজিবনগর সেই ইতিহাসের প্রাণ। মুজিবনগর উপজেলার একটি স্বনামধন্য গ্রাম মোনাখালি। গ্রামের এক প্রাণোচ্ছ্বল প্রগতিশীল কৃষক মো. ইসমাইল হোসেন।
ইসমাইল বর্তমানে একজন সফল মাল্টা চাষি। ২০১৩ সালের মার্চ মাস থেকে ইসমাইলের স্বপ্নগাঁথার শুরু। ঐ সময় মুজিবনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে ইসমাইলের কাছে দাওয়াত এলো উচ্চমূল্য ফসল মাল্টা উৎপাদন বিষয়ক একদিনের প্রশিক্ষণে তাকে উপজেলা সদরে যেতে হবে। যথাসময়ে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে মনে মনে স্থির করলেন তিনি মাল্টা চাষে হাত লাগাবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার সাথে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন। সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. খসরু মিয়া তাকে জানালেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মাল্টা প্রদর্শনীর জন্য তার মতো একজন কৃষক খোঁজা হচ্ছে এবং তিনি (ইসমাইল) রাজি থাকলে তাকে একটি মাল্টা প্রদর্শনী দেওয়া হবে। ইসমাইল সানন্দচিত্তে রাজি হয়ে জমি তৈরিসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোফাখারুল ইসলাম মাল্টা পরখ করে দেখছেন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোফাখারুল ইসলাম মাল্টা পরখ করে দেখছেন

খরিপ/১ ২-১৩-১৪ মৌসুমে দ্বিতীয় শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের অন্তর্গত মাল্টার আধুনিক উৎপাদন কৌশলের উপর প্রকল্পভূক্ত এলাকায় ৩১টি প্রদর্শনী দেয়া হয়। মুজিবনগর উপজেলায় দু’টি প্রদর্শনী দেয়া হলে তার একটি দেয়া হয় কৃষক ইসমাইলকে। প্রকল্পের পক্ষ থেকে এই প্রদর্শনীর জন্য ৫০টি নির্ধারিত বারি মাল্টা-১ এর চারা দেয়া হয় ইসমাইলকে। তিনি প্রকল্পের নির্দেশনা অনুসারে ৩x৩ মিটার দূরে দূরে ২৫ শতক জমিতে এই চারাগুলো রোপন করেন। ৬০x৬০x৬০ সেন্টিমিটার আকারের গর্তে ১০ কেজি কম্পোস্ট, ১০০ গ্রাম করে ট্রিপল সুপার ফসফেট ও মিউরেট অব পটাশ, ১৫ গ্রাম জিঙ্ক সালফেট, ২০০ গ্রাম জিপসাম এবং ৫ গ্রাম বরিক এসিড প্রয়োগে ১০ দিন পর চারা রোপন করেন। নিয়মমাফিক আগাছা দমন, সেচ  ও নিষ্কাশন, সার প্রয়োগসহ অন্যান্য পরিচর্যা করার পর চারাগুলো তরতর করে বড় হতে থাকে। সেই সাথে বড় হতে থাকে ইসমাইলের স্বপ্ন। ২০১৪ সালে দু’একটি গাছে মাল্টা আসে। মাল্টার আকার, আকৃতি, স্বাদ ও মিষ্টতায় অভিভূত হন ইসমাইলসহ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সবাই। এরপর চলতি ২০১৫ সালে সব গাছে মাল্টা আসে এবং প্রতিটি গাছে ২৮ থেকে ৮৫টি  পর্যন্ত ফল ধরে; গাছ যেন দেখা যায় না, শুধু মাল্টা আর মাল্টা। প্রতিটি ফলের ওজন ১৭৫ থেকে ২৯৫ গ্রাম।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, আমাদের দেশের জলবায়ুতে সাধারণত এপ্রিল মে মাসে ফুল আসে এবং সেই ফুল থেকে ফল পরিপক্ক হয় সেপ্টেম্বর ও আক্টোবর মাসে। এই সময় আমাদের দেশে আম, জাম, কাঠাল বা লিচুর মত জনপ্রিয় ফলগুলো পাওয়া যায় না বিধায় মাল্টার চাহিদা থাকে আকাশচুম্বি। এছাড়া বারি মাল্টা-১ জাতটি অতুলনীয়। পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, লেবানন, তুর্কি বা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিকৃত ও কৃত্রিম উপায়ে হলুদ বা কমলা রংকৃত মাল্টার জাতটি টক এবং স্বাদহীন বিধায় বারি মাল্টা-১ জাতটির চাহিদা ও ব্যাপক। এই মাল্টা মিষ্টি, ভেজালমুক্ত এবং রসালো। এর টোটাল সলিবুল সলিডস (টিএসএস) ধারণক্ষমতা ১১-১৩ শতাংশ।
ইসমাইল জানান, তার মাল্টা বাগানে আন্তঃফসল হিসাবে তিনি এ বছর পটল চাষ করেছেন। তিনি আরো জানান, এ বছর শুধু আন্তঃফসল পটল বিক্রি করেই আয় করেছেন ৩৮ হাজার ৫শত টাকা এবং মাল্টা বিক্রি করে আয় করেছেন ৬২ হাজার টাকা। প্রতিটি মাল্টা বিক্রি করেছেন ২০ টাকা দরে। এ ছাড়া প্রায় হাজার খানেক মাল্টা দিয়েছেন আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং বিভিন্ন অফিস আদালতে। সব মিলিয়ে তিনি তার পঁচিশ শতক জমি থেকে এ বছর নগদ আয় করেছেন ১ লাখ ২ হাজার টাকা। তাকে, তার সাফল্য এবং মাল্টাবাগান দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে শত শত কৃষক কৃষাণী। ইসমাইল এখন তার ও আশপাশের এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন মাল্টা ইসমাইল নামে।