নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, দেশে জঙ্গির আবিষ্কারক আওয়ামী লীগ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘জঙ্গি তত্ত্বের আবিষ্কার! সংকট ও পরিণতি, মুক্তি কোন পথে’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল।’
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘যাদেরকে এক সময় বলা হয় জঙ্গিবাদের গডফাদার, তারাই কথায় কথায় বলে জঙ্গিবাদ, জঙ্গীবাদ। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আন্দোলন ও দাবিকে তারা জঙ্গিবাদ বলেছে। পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য যে ফাঁদ তারা সৃষ্টি করেছিলেন, আজ সেই ফাঁদেই তারা পড়েছেন।’
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি ‘প্রহসনের’ নির্বাচনের জন্য দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য সরকার জঙ্গিবাদের যে ধোয়া তুলেছিল, সেই ফাঁদে আটকা পড়েছে তারা।
তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের বিকল্প স্বৈরতন্ত্র, আর স্বৈরতন্ত্রের বিকল্প জঙ্গিবাদ, স্বৈরতন্ত্রকে জঙ্গিবাদের মাধ্যমে উপড়ে ফেলতে হয়। জনগণকে যখন স্তব্ধ করে দেওয়া হয়, জনগণ যখন কথা বলতে পারে না তখন জঙ্গিবাদের উদ্ভব ঘটে, স্বৈরাচারি সরকারের ওপর সেই জঙ্গিবাদ আঘাত হানে।
খন্দকার মাহবুব বলেন, আজকে জঙ্গিবাদের হামলায় সারা বিশ্ব থেকে তারা (সরকার) বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের ক্ষমতার আসন নড়বড়ে হয়ে গেছে।
সরকার জঙ্গিবাদের ধোয়া তুলে ক্ষমতায় ঠিকে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অতীতে এমন ঘটনার মাধ্যমে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। এ সরকারও টিকে থাকতে পারবে না।
সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন জাগপার প্রধান শফিউল আলম প্রধান। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা, জাতীয় পার্টির (জাফর) যুগ্ম মহাসচিব এ এস এম শামীম প্রমুখ।
শফিউল আলম প্রধান বলেন, অবৈধ সরকারকে জায়েজ করতে জঙ্গিবাদের খেলা করছে সরকার। এর পরিনাম আজ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ আসতে অস্বীকার করেছে। এরপর ইতালিয়ান নাগরিক হত্যার শিকার হয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ‘সিংহ’ উল্লেখ করে শফিউল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামের সিংহ পুরুষ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আমাদের অন্যতম শরীক জাতায়াতের নেতা আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এই ফাঁসির দড়ি ও গুলি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

