নিজস্ব প্রতিবেদক : মৎস্য রোগ নিরাময়ে ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহারে আশাব্যাঞ্জক সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-বিএফআরআই। মৎস্য গবেষণার অংশ হিসাবে রোগাক্রান্ত পুটিঁ, শিং এবং রুই জাতের মাছের উপর নিম পাতা, কালিজিরা তেল, আকন্দসহ ভেষজ গুণ সম্পন্ন গাছের ফল-পাতা ব্যবহার করে গবেষকরা এ সফলতা পেয়েছেন। যা মৎস্য খাতের উন্নয়নে একটি সম্ভবনাময় দিক।
আজ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে বিএফআরআই আয়োজিত বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটাতে প্রযুক্তি নির্ভর চাষাবাদের কোন বিকল্প নেই। মৎস্য খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বর্তমান সরকার বহুমুখি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বিএফআরআই এর বিজ্ঞানীরা কৈ মাছের জাত উন্নয়ন ও চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন, ইলিশের নতুন অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, উপকূলীয় অঞ্চলে শিলা কাঁকড়া ও পারসে মাছের প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন, গলদা চিংড়ির আগাম ব্রুড উন্নয়নসহ মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ৫০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কুচিয়ার পোনা উৎপাদনেও বিএফআরআই এর বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে সফলতা অর্জন করেছেন। গবেষকরা বাণিজ্যিক গুরুত্ব সম্পন্ন সামুদ্রিক শ্যাওলার চাষাবাদ ও পুষ্টিমান নির্ণয়ে গবেষণা পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, লোনা পানি অঞ্চলের সুস্বাদু পারসে মাছের কৃত্রিম উপায়ে পোনা উৎপাদন প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সবশেষ সাফল্য।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্তিক প্রচেষ্টায় বিশাল সমুদ্র জয়ের ফলে বঙ্গোপসাগরের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক এলাকায় মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা পরিচালনার এক নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রে প্রয়োজনীয় জরিপ ও গবেষণা পরিচালনার জন্য মালয়েশিয়ায় তৈরী মীন সন্ধানী নামে অত্যাধুনিক জরিপ জাহাজ কেনা হয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই জাহাজটি দেশে আনা হবে। মীন সন্ধানীর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে মাছের মজুদ, প্রজনন এলাকা নির্ণয় এবং ব্যস্থাপনা কৌশল নির্ণয় করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ, এনজিও কর্মী এবং চাষীদের একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কারেন্টজাল ও বেহেন্দী জালের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধে নিজ নিজ অবস্থান হতে সোচ্চার হবার আহবান জানান। গুণগত মানসম্পন্ন উৎপাদন বাণিজ্যিক গুরুত্ব সম্পন্ন অর্থকরী প্র্রজাতি- সামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া এবং কুচিয়ার চাষ জনপ্রিয় করতে অধিকতর গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীদের পরামর্শ প্রদান করেন।
তিনি চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লহ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে ইলিশের জাটকা সংরক্ষণের মত পাঙ্গাশ মাছের পোনা সংরক্ষণের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিএফআরআই এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহের এর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সচিব শেলীনা আফরোজা পিএইচডি, মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক, শেখ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বক্তৃতা করেন। বিএফআরআই‘র পরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি উপস্থাপন করেন।
দু’দিন ব্যাপি কর্মশালায় ৫টি কারিগরি অধিবেশনে ৪৯টি প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে। বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মৎস্য কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, এনজিও কর্মী এবং সুফলভোগীসহ ৪৫০ জন অংশ গ্রহণ করছেন।

