ঢাকাThursday , 10 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপি এখন কফিনে : এরশাদ

Link Copied!

arshadচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে কফিনে প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জেলখানা থেকে লাশ হয়ে কে বের হবে সেটিও দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুর নগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এরশাদ বলেন, “২০১৩ সালে ময়মনসিংহে বিএনপি নেত্রী ক্ষমতায় আসবে আশা করে আমাকে বলেছিলেন, ‘এরশাদের জায়গা হবে জেলখানায়। লাশও কেউ দেখতে পাবেনা। কিন্তু বিএনপি এখন কোথায়? লাশ কে হবে সেটি এখন দেখার অপেক্ষায় রয়েছি। বিএনপি এখন কফিনে ঢুকে গেছে। তাদের আন্দোলনে কোনো মানুষ রাস্তায় নামে না। তারা সব আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, ‘বিএনপি-আওয়ামী লীগ এখনো ভয় পায় আমাকে নিয়ে। এখনো যদি রাষ্ট্রপতি শাসিত নির্বাচন হয় তাহলে জাতীয় পার্টিই ক্ষমতায় আসবে। সংসদে বিরোধী দল হচ্ছে সরকারের ছায়া সরকার। কিন্তু গণতন্ত্রের নামে সরকার সেই সুযোগটিও দিচ্ছেনা।’
এরশাদ বলেন, ‘মানুষ শান্তিতে থাকতে পারছেনা। মানুষ কথা বলতে পারছেনা। মানুষের বাক শক্তি কেড়ে নিয়েছে। চারিদিকে শুধু দুর্নীতি আর লুটতরাজ। এসব দেখে মানুষ পরিবর্তনের দিকে ছুটছে। যেদিকে যাচ্ছি মানুষের সাড়া পাচ্ছি। সূর্য একদিকে ডুবছে আর অন্যদিকে উঠছে। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। আমি সেনা প্রধান ছিলাম ৮ বছর, রাষ্ট্রপতি ছিলাম ৯ বছর। আমাকে আল্লাহ অনেক কিছুই দিয়েছে। আমি জনগণের জন্য বাঁচতে চাই। আমরা ধর্ষণ, খুন, গুম মুক্ত দেশ চাই। সেই দেশ দিতে পারবে জাতীয় পার্টি। একটি দল ঘোষণা দিয়েও রাস্তায় নামে না। শুধু আমরাই একমাত্র দল সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’
প্রশ্ন রেখে এরশাদ বলেন, ‘এটি কি সভ্য দেশ? ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। গণতন্ত্র বলতে কি বুঝায়? লেখার অধিকার, কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার কি আমাদের রয়েছে। দেশে এসবের কোনো কিছুই নেই। সকলের কণ্ঠারুদ্ধ করা হয়েছে। তবে আমরা সকলের জবীনের নিরাপত্তা দেবো। মন খুলে কথা বলতে দিব। লিখতে দিব, বলতে দিব।’
‘আমি ক্ষমতা ছাড়ার পর দল ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। দল ছেড়ে অনেকে চলে গিয়েছিল। তবে আজকে অনেকে আমাদের দলে ফিরে আসছে। তারা দেখতেছে আমাদের সুদিন ফিরে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি সেই দিন ডা. মিলন ও নুর হোসেন মারা যাওয়ার কারণে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমি মানুষের জন্য রাজনীতি করি। সেজন্য মানুষের দিকে তাকিয়ে আমি ক্ষমতা হস্তান্তর করলাম। আমি বিচারপতি শাহাবউদ্দিনকে শপথ পরিয়েছিলাম। তিনি নির্বাচন দেয়ার জন্য ক্ষমতা গ্রহণ করার কথা বললেও তিনি কথা রাখেননি। তিনি বেঈমানি করেছেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের ৬ দিনের মাথায় আমাকে, আমার স্ত্রী, ৬ বছরের সন্তানকে জেলে পাঠিয়েছেন। আমার দলের মন্ত্রী-এমপিদের জেলে পাঠিয়েছিলেন। এরপর থেকে মূলত আমার দুঃখের জীবন শুরু হয়েছিল। তবে এখন দেখতে পাচ্ছি, আমার জীবনের সুখ ফিরে আসছে। মানুষ আমাদের দিকে ফিরে আসছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রধর্মকে ইসলাম ঘোষণা করেছিলাম। আমি শুক্রবারকে সরকারি বন্ধ ঘোষণা করেছিলাম। অনেকে আমার সমালোচনা করেছিল। কিন্তু ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরেই ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। তিনি ওআইসিতে গিয়েছিলেন। কাকরাইলে তাবলীগ জামায়াতের জন্য জায়গা দিয়েছিলেন।’
সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘৯১ সালে আমি জেলে থেকে রংপুর থেকে পাঁচটি আসনে আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম। যদি আমি তখন নির্বাচিত না হতাম তাহলে তারা আমাকে মেরে ফেলতো। এরপরও আমি এবং আমার দল ঠিকে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখানে প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হয়েছিলেন। তাকে খুন করেছে মেজর মনজুর। সে প্রকাশ্যে তা বলেছিলো। এরপরও ১৪ বছর পর আমাকে এই হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমাকে বিএনপি শৃংখল পরাতে চেয়েছে। তবে আমি শংখলমুক্ত হয়েছি। আমাকে কেউ রুখতে পারবে না। আমার উপর অনেক জেল জুলুম হয়েছে। এখনো অনেক মামলা রয়েছে।’
সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ওপর সাড়ে সাতভাগ ভ্যাট আরোপ করেছে। অভিভাবকরা অনেক কষ্ট করে তাদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। তবে সরকার এই শিক্ষার ওপর ভ্যাট বসিয়েছে। কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে তার কোনো খবর নেই। সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকের লুটপাটের কোনো বিচার হচ্ছেনা। বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়ে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। তাহলে মূল হোতাকে কেন বাদ দেয়া হয়েছে। আমাদের অর্থ মন্ত্রী মাঝে মাঝে উদ্ভূট সব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, তিন হাজার টাকা লুটপাট ব্যাংক সেক্টরের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।’
চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মাহজাবিন মোরশেদের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু।
চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব এয়াকুব হোসেনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্ঠা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম এমপি, সিরাজুল ইসলাম মাষ্টার, নোমান মোহাম্মদ এমপি, মো. ইলিয়াছ এমপি, পীর ফজলুর রহমান এমপি,  সাবেক সাংসদ গোলাম কিবরিয়া, দলের সিনিয়র যুগ্ম মজহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে দলের মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘দেশের মানুষ যখন দিশেহারা, মুক্তির পথ দেখছে না। ঠিক সেই সময়ে সারা দেশে মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দেশের মানুষ এখন পেট্রোল বোমা, শিশু হত্যা, নারী নির্যাতন, খুন ও গুমের রাজনীতি দেখছেন। আওয়ামী লীগের হাসিনা এবং বিএনপির খালেদা দেশের মানুষের শান্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বারবার ক্ষমতার পালা বদল করলেও দেশের মানুষকে কোনো ভাগ্য বদল করতে পারেনি। দেশের মানুষ এখন এই দুই নেত্রী থেকে মুক্তি পেতে চায়। তারা পল্লীবন্ধু এরশাদকে ক্ষমতায় দেখতে চান।’
তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় পার্টির ৯ বছরের শাসনামলে কোনো দুর্নীতি, নারী নির্যাতন ও টেন্ডারবাজি করেননি। তিনি শুধুই উন্নয়ন আর উন্নয়ন করেছেন। চট্টগ্রামকে পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন করেছেন এরশাদ। ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে এই স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ৪৬৮টি উপজেলা গঠন করেছিলেন। তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রেীকরণ করেছিলেন।’
বাবলু বলেন, ‘শুধুমাত্র শের ই বাংলা নগরের পার্লামেন্টের একটি চেয়ারে বসা মানেই গণতন্ত্র নয়। দেশে আজকে কোনো গণতন্ত্র নেই। এখন যা চলছে তা হচ্ছে, এক নায়কতন্ত্র। গণতন্ত্রের অনেক প্যারামিটার রয়েছে। আমরা যদি ৯০সালের পর থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় ধারাবাহিকভাবে থাকতাম তাহলে ১৯৯৫ সালেই আমরা দেশকে মধ্য আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারতাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলছে। আজকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ওপর ভ্যাট আরোপ করেছে সরকার। শিক্ষা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। যে দেশে শিক্ষার নিশ্চয়তা নেই, সেই দেশে কোনো গণতন্ত্র থাকেনা। এসব নিশ্চিত করতে হলে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। মানুষকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস-দুর্নীতির খবর জনগণকে জানাতে হবে। জনগণের ঘরে ঘরে গিয়ে সরকারের  ব্যর্থতার চিত্র আমাদের মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।’
সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। আরমাই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা গণতন্ত্রের নামে শুধু মুখের বুলি উড়াই না। পল্লী বন্ধু এরশাদ ক্ষমতার বিকেন্দ্রেীকরণের জন্য উপজেলা পরিষদ গঠন করেছিলেন। তিনি গ্রামে গ্রামে উন্নয়ন করেছিলেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘৯০ সালে গণতন্ত্রের নামে যখন আন্দোলন চলছিল। তখন এরশাদ দেশের মানুষের কথা ভেবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার অভিপ্রায়ে ক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বে সামরিক শাসন জারি না করে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু দেশে যে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন হলো সেই গণতন্ত্র আজ বিপন্ন।’
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘যে মানুষটি জেলে থেকেও সংসদের পাঁচ পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপরও তথাকথিত সুশীল সমাজ তাকে স্বৈরচার বলে থাকেন, এর চেয়ে দুঃখের বিষয় আর কিছুই হতে পারেনা। ২০০১ সালে আমাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চাইলেও আমরা সব বাধা পেরিয়ে নির্বাচনে গিয়েছিলাম। আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের ক্ষমতায় যাওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছে।’