ঢাকাWednesday , 9 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ায় সবজির আকাল

Link Copied!

Vegetableমেহেরপুর প্রতিনিধি : সবজি উদ্বৃত্ত জেলা মেহেরপুরেও এখন সবজির আকাল। টানা বর্ষণের ফলে আগামী সবজি ও কাঁচা মরিচের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে পাইকার ও খুচরা বাজারে। চাষীদের লোকসানের পাশাপাশি আকাশচুম্বি দামে নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন আয়ের মানুষের।
জেলার মোট আবাদি জমির মধ্যে ৮০ ভাগ জমিতে অর্থাৎ ৪ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে সারা বছরই সবজি চাষ করা হয়। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ করা হয়। বাকি জমিতে গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি, পটল, করলা ও কচুসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ হয়েছিল।
প্রতি বছর জেলার সবজি চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত সবজি চলে যেত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে টানা বর্ষণের ফলে সবজি ও মরিচ ক্ষেত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশিরভাগ সবজি ক্ষেতের ফসল পচে নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগের হিসেব মতে, প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেতের মরিচ গাছ পচে নষ্ট হয়েছে। সবজির অবস্থা প্রায় একই। বাইরের জেলায় সবজি চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় জেলায় বর্তমান উৎপাদিত সবজির একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে। ফলে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে জেলার পাইকার ও খুচরা বাজারে।
চলতি সপ্তাহে প্রতি কেজি মরিচ পাইকার ১৪০-১৭০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৩৫ টাকা, মুখিকচু ২৮ টাকা, করলা ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারের দাম আরো বেশি। যে সমস্ত চাষীর ক্ষেতে সবজি রয়েছে তারা অর্থ পাচ্ছেন অনেকটাই লাটারির মতো।
হাড়িয়াদহ গ্রামের মরিচ চাষী হানিফ মিয়া জানান, কয়েকদিন আগে তিনি প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি করেছেন ১৭০ টাকা। তবে এত চড়া দাম পেয়েও তিনি সন্তষ্ট নন। তার দুই বিঘা জমির মরিচ ক্ষেতের মধ্যে দেড় বিঘা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বেশি দামেও তার লোকসান উঠছে না। পুরো জমির মরিচ ওঠানো গেলে যদি দাম ২০ টাকা কেজিও হত তাও তার বড় অংকের লাভ হতো।
আবু হানিফের মতো জেলার বেশিরভাগ সবজি ও মরিচ চাষীর একই অবস্থা। যাদের ক্ষেতে মরিচ গাছ এখনো নষ্ট হয়নি তাদের কপাল খুলেছে। কিন্তু যাদের মরিচ কিংবা সবজি নষ্ট হয়ে গেছে তাদের কপালে জুটেছে লোকসানের বোঝা।
চাষীরা জানান, ঝুঁকি নিয়ে বড় খরচের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করা হয়। তাই বর্ষণের ফলে বড় অংকের ক্ষতির মুখে পড়েছেন এ অঞ্চলের সবজি চাষীরা।
এদিকে, পাইকার বাজারের চেয়ে খুচরা বাজারের দামের বেশ ফারাক সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার জেলার বিভিন্ন বাজারে পটল প্রতি কেজি ৪২ টাকা, কচু ৩৫ টাকা, কপি ৬০ টাকা ও করলা ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। মরিচের দাম প্রতিদিনই দুয়েক টাকা বেড়ে আজ দাঁড়িয়েছে ১৬০ টাকায়। ফলে নাভিস্বাস উঠেছে নিম্ন আয়ের মানুষের। প্রয়োজনের তুলনায় অল্প কিনে জোড়াতালি দিয়ে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই।
খুচরা সবজি বিক্রেতারা জানান, দুই মাস আগে তাদের ৫ হাজার টাকা পুঁজি হলে মালামাল কেনা হতো। এখন সেখানে দ্বিগুণ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। এই অর্থ জোগানো সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তারপরেও রয়েছে অল্প বিক্রিতে অল্প লাভের একটি বিষয়। আগে যেখানে একমণ মরিচ বিক্রি হত এখন সেখানে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ কেজি। এতে লাভও কমে যাচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীদের।
এদিকে, খুচরা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পাইকারী ব্যবসায়ীরাও ভালো নেই। গাংনী কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী সাহাদুল ইসলাম জানান, গত বছর এই সময় প্রতিদিন ১০-১২ ট্রাক সবজি-কাঁচা মরিচ ক্রয় বিক্রয় হতো এখন সেখানে মাত্র এক দুই ট্রাক বেচাকেনা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কাঁচার বাজার সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা ও অর্থ সংকটে পড়েছেন।
মেহেরপুর তহবাজার (কাঁচা বাজার) ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবু হানিফ জানান, শুধু সবজি নয় পিঁয়াজ-রসুনের দামও চড়া। দুই মাস আগে প্রতি কেজি পিঁয়াজ ৪০ টাকা ও রসুন ৫০ টাকা ছিল। এখন তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সবজির সরবরাহ কম থাকায় তাদের ব্যবসায় ভাটা পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, বর্ষা মৌসূমে কৃষি অফিসের পরামর্শ মতো চাষ করলে ক্ষতির হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া যায়। চাষীরা সাধারণতা বেড পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে তেমন আগ্রহী নন। কিন্তু বেড পদ্ধতিতে সবজি আবাদ করলে বর্ষকালে অনেকাংশে সবজি রক্ষা করা সম্ভব। এতে কিছুটা খরচ বৃদ্ধি পেলেও সবজির ভালো দাম থাকার কারণে চাষীরা বেশি লাভবান হবেন।