ঢাকাTuesday , 8 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘সর্জন’ পদ্ধতিতে সারা বছর মাছ-সবজি চাষ

Link Copied!

agriনোয়াখালী প্রতিনিধি : লবণাক্ততা, খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতার একসময় নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে হাজার-হাজার একর জমি অনাবাদী পড়ে থাকতো। কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় কৃষকরা এ অবস্থাকে জয় করে নিয়েছে ‘সর্জন’ পদ্ধতির মাধ্যমে। এ পদ্ধতিতে সবজি ও মাছ একসঙ্গে চাষ করা যায়। আর এই পদ্ধতিতে ধানের তুলনায় বেশি লাভ হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি প্রচুর লবণাক্ত। এ ছাড়াও বন্যা, খরা, জলাবদ্ধতা, জোয়ার ভাটা থাকায় এ অঞ্চলে হাজার-হাজার একর জমি খালি পড়ে থাকত। যার ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা মানবতার জীবনযাপন করতো।
সর্বপ্রথম উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নে স্থানীয় কৃষক আলা উদ্দিন, মন্নান ও আনোয়ার উল্যাহ ‘সর্জন’ পদ্ধতির মাধ্যমে ২ বিঘা জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। কিন্তু প্রথম অবস্থায় সফলতা পাননি তারা। পরবর্তীতে তারা তিনজন আবার এ পদ্ধতির মাধ্যমে আবার চাষ শুরু করে সফলতার মুখ দেখেন।
এ পদ্ধতিতে তাদের সফলতা দেখে বর্তমানে উপজেলার অনেক কৃষক তা অনুসরণ করে চাষাবাদ করছেন। এ পদ্ধতিতে সবজি এবং মাছ উভয় সারা বছর চাষাবাদ করতে পারায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।
তারা আরো জানান, প্রথমে জমি থেকে মাটি কেটে আইল করে এবং নালা তৈরি করা হয়। পরে আইলের উপর শশা, করলা, কুমড়া, লাউ, পেঁপে, শিমসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করা হয়। আর নালাতে তেলাপিয়া, রুই, কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। ফলে দেখা যায় বর্ষা মৌসুমে যখন চারদিক পানিতে তলিয়ে যায়, তখনও এখানকার সবজি অক্ষত থাকে। আবার রবি মৌসুমে যখন চারদিক পানি থাকে না তখন নালা থেকে পানি উঠিয়ে সবজি উৎপাদন করা হয়। সারা বছরই ফসল ও মাছ উৎপাদন হওয়ায় বর্তমানে স্বচ্ছল হয়ে উঠেছে এখানকার কৃষক পরিবারগুলো।
কৃষক আলা উদ্দিন, মন্নান ও আনোয়ার উল্যাহ জানান, ২০০৮ সালে তারা এ পদ্ধতি (সর্জন) ব্যবহার করে সবজি ও মাছ চাষ করতে পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় অঞ্চল ভোলায় দেখেন। পরবর্তীতে তারা এ পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজেদের অঞ্চলে চাষাবাদ শুরু করেন। বর্তমানে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা সফলতার মুখ দেখেছেন।
সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (সিডিএসপি-৪ প্রকল্প) মাঠ কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম জানান, ‘সর্জন’ পদ্ধতি হচ্ছে ইন্দেনেশিয়ার একটি চাষাবাদ পদ্ধতি। যেখানে মাটিতে লবণাক্ততা বেশি, খরা, বন্যা বা জলাবদ্ধতা সেখানে এ পদ্ধতিটি কার্যকর। এ পদ্ধতিতে সবজি এবং মাছ উভয়টি সারা বছর চাষাবাদ করা যায়।
বর্তমানে এ পদ্ধতিতে উপজেলার পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের হেমায়েতপুর-চৌব্বিশদাগ, রসুলপুর, ছনখোলা, সায়েদপুর, আলীমপুর ও চরক্লার্ক ইউনিয়নের আল-আমিন সমাজ, সোলেমান বাজার, সয়ারভিটা, দুইশ দাগ সমাজ, ইসলামপুর সমাজসহ কয়েকটি অঞ্চলের অন্তত ১ হাজার কৃষক ৮৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করছেন।
তিনি আরো জানান, ৬ সেপ্টেম্বর রোববার সকালে তিনি সর্জন পদ্ধতিতে চাষের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন।