নিজস্ব প্রতিবেদক : আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন আবারো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির ছয়জন নেতা-কর্মীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘তুলে নিয়ে যাওয়ার’ পর তাদের হদিস মিলছে না, দাবি করে ওই ঘটনাসহ সব ধরনের বিচারবহির্ভূত গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি করেছে দলটি।
সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২২ আগস্ট চাপাইনবাবগঞ্জে বিএনপি কর্মী রব্বানী, আবু ও নুরুল ইসলাম টিটু, ২৩ আগস্ট আপেল এবং ৩০ আগস্ট বাবু ও টুটুলকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে তাদের হদিস মিলছে না।
বিএনপির এই মুখপাত্র অভিযোগ করেন, ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা জজ কোর্টে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কেরানীগঞ্জের বিএনপি কর্মী ফেরদৌসকে র্যাব তুলে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা করে। ৫ সেপ্টেম্বর বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় যুবদল নেতা আল আমিন হাওলাদার এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যুবদল নেতাকে সরকার সমর্থকরা হত্যা করেছে। কামরাঙ্গীচর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এমএ সায়েম ও খোরশেদকে পুলিশ গ্রেফতার করে বেধরক লাঠিপেটা করেছে।
তিনি আরো বলেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন সংবিধান লঙ্ঘন করে বেআইনি কার্যপলাপ করে যাচ্ছে। গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা এ ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। এই অবস্থায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাদের উচিত বিষয়টি উপলব্ধি করে এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা।
ইতোমধ্যে যারা নিখোঁজ হয়েছেন তাদের পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান রিপন। একই সঙ্গে বিচার বহির্ভূত গ্রেফতার ও হত্যাকা- বন্ধ করার দাবি জানান বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, বিএনপি সব ধরনের বিচার বহির্ভূত গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করে। এই সব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার উচিৎ।
রিপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন ‘দেশে ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, অন্ধকার যুগ চলছে’ -সরকারের অংশীদার এবং মন্ত্রীপদমর্যাদার একজন যখন এই কথা বলেন তখন তা নিবন্ধিত হয়ে যায়। তার এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
বিএনপির এই নেতা বলেন, অব্যাহত খুন, গুমে দেশে যে ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা বিএনপি অনেক আগে থেকেই বলে আসছে। দেশে এখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ নয়। এমনকি মায়ের পেটেও শিশু নিরাপদ নয়। একজন আইলান সারা পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দিলো। শাসকদলের অন্তর্কোন্দেলে মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হলো শিশু। বিষয়টি সবার বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু দেয়নি সরকারি দলকে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন হত্যা, গুম, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি ক্রমেই সহ্যের সীমার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মানুষ বোধহয় এতো বোঝা বহণ করতে পারছেনা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাম্মি আকতার, জেবা আহমেদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

