নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ না পেয়ে সংসদের আক্ষেপ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। তার এই আক্ষেপ ও হতাশার জবাবে স্বতন্ত্র সদস্য হাজি সেলিম সান্ত্বনা দিয়ে গান গেয়ে শোনান। হাজি সেলিম ফিরোজের উদ্দেশে গান গেয়ে বলেন, মানুষের মৃত্যুর পর কিছুই সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এ সময় সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিতে রোববার সংসদের বৈঠকে মাগরিবের নামাজের বিরতির পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ফিরোজ রশীদ এই অভিযোগ তোলেন। জবাবে হাজী সেলিম গানের সুরে বলেন, ‘থাকব না আর এই দেশে, চলরে মন আপন দেশে।’ তারপর বলেন, ‘ফিরোজ ভাই, জায়গা-জমি কিছুই সঙ্গে যাবে না। যেতে হবে খালি হাতে।’
পয়েন্ট অব অর্ডারে কাজী ফিরোজ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পৌনে ৫০০ প্লট জালিয়াতি হয়েছে। এক-এগারোর সরকার প্লটের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে আমরা ২১ জন আবেদন করেছিলাম। ততদিনে নির্বাচন হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণ করে। ১৯ জন বরাদ্দ পেল। বাদ পড়ে দুজন। আমি আর আমার ছেলে।
ফিরোজ রশীদ বলেন, তখন প্রতিমন্ত্রী (গৃহায়ণ ও গণপূর্ত) ছিলেন আবদুল মান্নান খান। তিনি আমাকে বললেন আপনারা ভিন্ন রাজনীতি করেন বলে প্লট দেওয়া গেলো না। এ নিয়ে জানতে চাইবেন না প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে। তাহলে কি প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পৌনে পাঁচশ প্লট জালিয়াতি করিয়েছেন? এতবড় দুর্নীতি বাংলাদেশে আগে হয়নি। ৫০টি প্লটের হিসাব নেই। বরাদ্দ বাতিল করা ৬৪ জনকে প্রতিমন্ত্রী পরে প্লট দিলেন। আবেদন না করেই প্লট পান ১৬ জন।
স্পিকারের উদ্দেশে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমি প্লট চাই না। শুধু একটাই দুঃখ, আমার ছেলে বলেছে, বাবা তোমার সন্তান বলে আমি প্লট পেলাম না।’
মান্নান খানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জেল খাটছি, মুক্তিযুদ্ধ করেছি। তিনি তখন অন্য জগতের মানুষ। মন্ত্রী হলে এরা দেশ বিক্রি করে দেয়। এরা হাইব্রিড নেতা। এরা আওয়ামী লীগকে শেষ করে দিয়েছে। এর কৈফিয়ত দিতে হবে।’

