নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বর্ধিতমূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (অব.) মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। ‘জবাবদিহিতার অভাবেই’ দেশে ফের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কারামুক্ত নেতাদের নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তাবক অর্পণ শেষে তিনি এ দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয় বিইআরসি। সে অনুযায়ী, গ্যাসের দাম গড়ে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বাড়ানোয় গ্যাসের মাসিক বিল ২০০ টাকা বাড়িয়ে এক চুলার জন্য ৬০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান এ আর খান জানিয়েছেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন এই মূল্যহার কার্যকর হবে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই মুল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়বে উল্লেখ করে হাফিজ বলেন, ‘বাংলাদেশে জবাদিহিহীনতার সংস্কৃতির ফলে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। আর এর প্রভাব পড়বে কৃষক সমাজ ও নিম্নআয়ের মানুষদের ওপর। তাই গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্ধিতমূল্য সরকারকে প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, সারা বিশ্বে যখন তেলের দাম স্থিতিশীল সেই মুহূর্তে বর্তমান সরকার গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া সরকার গঠন করায় দেশ গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর ফলে কেউই সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে পারছে না। ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়’ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
বর্তমান সরকারের আমলে কেউই নিরাপদ নয় মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ছোট্ট কারাগার থেকে বের হলেও কারামুক্ত নেতা-কর্মীরা একটা বৃহৎ কারাগারে এখনও বন্দি আছে। একটি টেলিভিশনের মালিক বর্তমানে কারাগারে বন্দি আছেন। ইসলামী টেলিভিশিন ও দিগন্ত টেলিভিশনসহ অনেক টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ রয়েছে। আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের পাশাপাশি সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদসহ অনেক সাংবাদিক কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
হাফিজ উদ্দিন অবিলম্বে কারাবন্দি সকল বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।এ সময় বিএনপি নেতাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিব, রফিক শিকদার, রফিকুল ইসলাম রফিক, জাসাস নেতা জাহাঙ্গীর শিকদার, কে এস হোসেন টমাস, আব্দুল হাই ভুইয়া, তাজুল ইসলাম তাজু, মাহির আহমেদ রানা, মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

