নিজস্ব প্রতিবেদক : শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, লর্ড ক্লাইভ যেভাবে মীর জাফরকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল, তেমনিভাবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল। জিয়া ক্ষমতায় এসে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার রাজাকারকে মুক্ত করে দিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নীলদলের উদ্যোগে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, তিনি জাতীয় শোক দিবসে কেক কাটার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানিদেরই দোসর ছিল। খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছেন। এজন্য স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে তারা পেট্রোল বোমা মেরে, মানুষের জানমালালের ক্ষয়-ক্ষতি করে দেশে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যেভাবে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল, সেভাবে ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে পুনরায় বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার কন্যা সেভাবেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় বঙ্গবন্ধুর রক্ত ঠিকভাবে কাজ করছে। আর এ জন্যই স্বাধীনতাবিরোধীরা শেখ হাসিনাকে বার বার হত্যার অপচেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালিদের জীবনে একটি কালো অধ্যায়। এ দিনে আমরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হারিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড ছিল একটি সূক্ষ্ম পরিকল্পনা। ইতিহাসের এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে তারা পারিবারিক হত্যাকাণ্ড বলে অপপ্রচার চালিয়েছিল। তারপর থেকে স্বাধীনতাবিরোধীরা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত করতে তৎপর হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, জাতির জনককে যারা হত্যা করেছে তাদেরকে বিপথগামী বলে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-কে ছোট করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পিছনে অনেক দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকা-। আর এ পরিকল্পনার অন্যতম ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মনিরুজ্জামান সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. মো. মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন প্রমুখ।
এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, ছাত্রনেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে আলোচনা সভার আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের উদ্যোগে শহীদ রফিক ভবন প্রাঙ্গণে বাঁধন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট এবং সন্ধানী, সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ইউনিট-এর সহযোগিতায় রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

