স্বাস্থ্য ডেস্ক : ভেষজ গুণের দুনিয়াতে থানকুনি বেশ প্রসংশিত। নানা কার্যকারিতা দিয়ে ধরে রেখেছে নিজের অবস্থান। থানকুনি বর্ষজীবি উদ্ভিদ। কোনো প্রকার যত্ন ছাড়াই জন্মে। মাটির ওপর লতার মতো বেয়ে ওঠে। পাতা গোলাকার ও খাঁজকাটা। সাধারণত স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশেই থানকুনি গাছ বেশি জন্মে। তাই পুকুরপাড় বা জলাশয়ের পাশে থানকুনির দেখা মেলে বেশি। সংস্কৃতিতে থানকুনি ‘ব্রাহ্মী’ নামে পরিচিত। তবে অঞ্চলভেদে থানকুনি টেয়া, মানকি ইত্যাদি নামে পরিচিত। থানকুনি পাতা শাক হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়, বিশেষ করে ভর্তা বা কাঁচা পাতা সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়। থানকুনিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। এছাড়াও থানকুনির রয়েছে নানা ভেষজ গুণ –
– থানকুনি পাতা সব ধরনের পেটের রোগের মহৌষধ। পাতা বেটে ভর্তা করে বা ঝোল করে খেলে বদহজম, ডায়রিয়া, আমাশয় ও পেটব্যথা দূর হয়।
– আলসার এগজিমা, হাঁপানি, চুলকানি ও অন্যান্য চর্মরোগ সারাতে থানকুনি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
– থানকুনি পাতার সক্রিয় উপাদান ব্যকসাইড এ ও বি রয়েছে। ব্যকসাইড বি মস্তিষ্কের কোষ সতেজ রাখতে সহায়তা করে। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
– থানকুনি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। সংবহনতন্ত্রের স্থায়ীভাবে স্ফীত ও বর্ধিত শিরা কমাতে সহায়তা করে।
– থানকুনি পাতা চামড়া মসৃণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
– পুরনো ক্ষত সারাতে থানকুনি পাতা সেদ্ধ করে তার পানি দিয়ে নিয়মিত ধুলে সহজে নিরাময় হবে। নতুন ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
– অপুষ্টির কারণে মাথা থেকে চুল পড়ার সমস্যা হলে থানকুনি পাতার রস খেলে উপকার পাবেন।
– থানকুনি দেহের ক্লান্তি দূর করে লাবণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। এক গ্লাস দুধের সঙ্গে ৫ থেকে ৬ চা চামচ থানকুনির রস মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
– দাঁতের রোগেও থানকুনি অনেক উপকারী। থানকুনি পাতা দিয়ে সেদ্ধ পানি কুলকুচি করলে দাঁতের ব্যথা ও মাড়ি থেকে রক্তপড়া কমে যায়।
সতর্কতা
একাধারে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই অপকার এড়িয়ে শুধু উপকার পেতে মাঝে মাঝে খেতে পারেন।

