লাইফস্টাইল ডেস্ক : একটা সময় হাতঘড়ি পরাটা আধুনিকতার পরিচয় বহন করতো। তবে ঘড়ির প্রয়োজনটা যখন আমরা মুঠোফোনে সেরে নিতে শুরু করলাম তখন ঘড়ি পরার রীতিটা ধীরে ধীরে কমে আসতে শুরু করলো। নতুন এই রীতি ঘড়ি পরার সব ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে ঢেকে চালু করলো নতুন ট্রেন্ড। সবার কাছে পছন্দের মোবাইলে বারবার সময় দেখাটাও একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়ে উঠলো সহজে। কিন্তু একটা সময় পরে রুচির পরিচয় বহনে আবারও তাগিদ পড়লো ঘড়ি পরার স্মার্ট রীতিতে।
বর্তমান সময়ের তরুণদের কাছে ঘড়ি শুধু প্রয়োজনের জন্যেই নয় বরং ব্যবহৃত হচ্ছে ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে। বন্ধুদের আড্ডায় কিংবা জমকালো উৎসবে ঘড়ি না পরলে সাজটা যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যারা একটু ফ্যাশন সচেতন তারা আবার পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ঘড়ি পরেন। তরুণরা সাধারণত এখন বড় ডায়ালের ঘড়ি পছন্দ করছে। ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে মানানসই চেইনের বড় ডায়ালের ঘড়ি আর ফরমাল পোশাকের সঙ্গে চামড়ার বেল্টের ছোট ডায়ালের ঘড়ি বেশ মানিয়ে যায়। তবে উঠতি বয়সের তরুণদের স্পোর্টস ঘড়ির প্রতি আকর্ষণটা অনেক আগে থেকেই। অনেকে আবার ব্রেসলেটের বদলে নানা ডিজাইনের ঘড়িতে নিজের হাতটি সবার মাঝে রুচি উপযোগী করে নিচ্ছেন। বিজ্ঞানের এই যুগে হাতে থাকা ঘড়িতে এখন যোগ হয়েছে নানা প্রযুক্তি। প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে এগিয়ে রাখতেও অনেকের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে এসব স্মার্ট হাতঘড়ি।
ঘড়ি পরার সময় একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যেন তা পোশাক-পরিচ্ছদে মিলিয়ে আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হয়। এছাড়া হাত মোটা হলে চিকন বেল্টের ঘড়ি এবং হাত চিকন হলে মোটা বেল্টের ঘড়ি ভালো মানায়। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘড়ি পাওয়া যায়। ব্র্যান্ড ভেদে কোয়ালিটি অনুযায়ী দামও ভিন্ন। টাইটান ব্র্যান্ডের ঘড়ি পাওয়া যাবে ২ হাজার ৮৭৫ থেকে ১৮ হাজার ২০০ টাকায়, ফাস্ট ট্রাক ৪ হাজার ৬২০ থেকে ৮ হাজার ২২০ টাকায়। ওমেগা ব্র্যান্ডের ঘড়ি পরতে চাইলে পকেট থাকা চাই বেশ গরম। এই ব্র্যন্ডের ঘড়ির দাম শুরু হয়েছে ১ লাখ থেকে। ওরিয়েন্ট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।
অপরদিকে রোমার ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৬০ হাজার, টিসোর্ট ২৫ হাজার থেকে লাখ, র্যাডো ৪০ হাজার থেকে ২ লাখ, প্যারিলাইনার ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার, ট্যাগহিয়ার ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ, রোমানসন ৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার, ওয়েস্টার ২ হাজার থেকে ১৫ হাজার, সিটিজেন ১ হাজার ৭০০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। ব্র্যান্ডের ঘড়িগুলোয় সাধারণত এক থেকে দুই বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা থাকে। কেনার আগে এটি ভালোভাবে জেনে নিন। এছাড়া অনেকের অভ্যাস থাকে কিছুদিনের ব্যবহারে হাতঘড়িটি বদলে নেয়া। তাদের জন্য বেশি উপযোগী হতে পারে নন-ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি। নন-ব্র্যান্ড ঘড়িগুলো ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

