স্পোর্টস ডেস্ক : সবমিলে দুই দিনও খেলা হয়নি ফতুল্লায়। এমন টেস্টে ফলোঅনে পড়ায় বাংলাদেশ সমর্থকরা যারপনারই হতাশ। ক্রিকেটাররাও যে হতাশ তা লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেননি। বৃষ্টি না হলে অবধারিতভাবেই পরাজিত দলের কাতারে থাকতো বাংলাদেশের নাম।
তবে ফতুল্লা এখন অতীত। বৃহস্পতিবার থেকে সামনে আসছে মিরপুর। এখানকার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। মুশফিকের জায়গায় নেতৃত্বের বাটন থাকছে মাশরাফি বিন মর্তুজার হাতে।
বদল হচ্ছে, আরও বেশ ক’টি জায়গায়। ফিরছেন রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদের মতো গতি তারকারা। মাশরাফি-রুবেল-তাসকিন, এই ত্রিমূর্তীকে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে ওয়ানডে সিরিজে। এই ত্রয়ীর পেস আক্রমন কতটা ভয়ংকর তা দেখা গেছে বিশ্বকাপে। এরপর পাকিস্তান সিরিজেও।
মাশরাফি বিন মুর্তজা
মাঠে অনুশীলনে যাওয়ার সময় রিকশা থেকে পড়ে আহত হন মাশরাফি বিন মুর্তজা। মঙ্গলবার পর্যন্তও তার হাতে ব্যান্ডেজ দেখা গেছে। ইস্পাতের মতো কঠিন মনোবল বাংলাদেশ অধিনায়ক যে খেলবেন সেটা চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়। মাশরাফির দু’হাটুতে বড় বড় সব অস্ত্রপচারও তাকে ক্রিকেটছাড়া করতে পারেনি। তাছাড়া মাঠে মাশরাফির উপস্থিতিই সতীর্থদের চাঙা করতে যথেষ্ট। বিশ্বকাপে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে তার নেতৃত্বকে বড় করে দেখা হয়। সঙ্গে পারফরম্যান্সও।
অনেক সময় ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার কাজটি করে দেন মাশরাফিই। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সেই বিতর্কিত কোয়ার্টার ফাইনালে ৬৯ রানে তুলে নিয়েছিলেন ১ উইকেট। ইংলিশ বধের সেই ম্যাচে ৪৮ রান দিয়ে পান গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট।
ভারতের বিপক্ষে অতীত রেকর্ডও মাশরাফির হয়ে কথা বলছে। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রথমবার ভারত জয়ের গল্পের নায়কও তিনি। ব্যাট হাতে অপরাজিত ঝড়ো ৩১ রানের পর বল হাতে ২ উইকেট। এরপর ২০০৭ বিশ্বকাপে রাহুল দ্রাবিড়ের দলকে বিদায় করার ম্যাচেও ম্যাচসেরা নড়াইল এক্সপ্রেস। ৩৮ রানে তুলে নেন ৪ উইকেট। আর মাত্র ৭ উইকেট পেলেই ২০০ উইকেটের ল্যান্ডমার্কে পৌঁছে যাবেন মাশরাফি। কে জানে সেটা হয়ে যেতে পারে এই সিরিজেই।
রুবেল হোসেন
চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ফতুল্লা টেস্টে রুবেল হোসেনকে দলে না রাখার ব্যাখা দিয়েছিলেন এই বলে যে, ‘তাকে ওয়ানডের জন্য মওজুদ রাখা হয়েছে।’ তার কথার সারমর্ম, রুবেল ওয়ানডের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখুক। রুবেল কী পারবেন চোট থেকে ফিওে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স দেখাতে?
যেখানে তিনি বিরাট কোহলিকে ড্রেসিংরুমের রাস্তা দেখিয়ে বুনো উদ্যাপন করেছেন! তবে রুবেলকে মানুষ মনে রাখবে, অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ড বধের জন্য। ওই ম্যাচে ৫৩ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট তুলে নেন । এই তথ্যও ঠিক রুবেলের কীর্তিকে ভালো করে তুলে ধরতে পারছে না। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে দুটি স্বপ্নের ইয়র্কারে স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন স্টুয়াট ব্রড এবং জেমস অ্যান্ডারসনের।
আর তাতেই বাংলাদেশ প্রথমবার পেয়ে যায় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স রুবেল টেনে আনেন পাকিস্তান সিরিজেও। তিন ম্যাচে তুলে নেন ৪ উইকেট। এই ধারা বজায় থাকলে রুবেলের সামনে ভুগতে হবে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের।
তাসকিন আহমেদ
মাশরাফির সঙ্গে তাসকিন আহমেদের লাফিয়ে উঠে বুক মেলানোর দৃশ্যটি এখন ট্রেডমার্ক হয়ে গেছে। যেটার শুরু বিশ্বকাপ থেকে। এর দ্বিতীয় সংস্করন হয়েছে পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করার সিরিজেও। গতি দিয়ে বিশ্বকাপে বড় বড় ব্যাটসম্যানদের চমকে দিয়েছেন তাসকিন। ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে সফল। ৬৯ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ৩ উইকেট।
সমসংখ্যক উইকেট পেয়েছিলেন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও। তাসকিনের বিশ্বকাপের চমকে দেওয়া পারফরম্যান্স দেখা গেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই। এখানে তিনি ৪২ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট।
অবশ্য ২০ বছর বয়সী তাসকিনের শুরুটাও কিন্তু চমকে দেওয়ার মতো। ২০১৪ সালের ১৭ জুন ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই ২৮ রানে পেয়েছিলেন ৫ উইকেট। অভিষেকে বাংলাদেশের আর কেউই ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি।
সবমিলে ১২ ওয়ানডেতে ২৯ উইকেট। এরমধ্যে ১০ উইকেটই তিনি পেয়েছেন ভারতের সঙ্গে। প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফের কী স্বরুপে দেখা যাবে তাসকিনকে? এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পর।

