ঢাকাWednesday , 17 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশ-ভারত সেরা পাঁচ ওয়ানডে লড়াই

Link Copied!

Indiaস্পোর্টস ডেস্ক : এক সময় বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ হলে চোখ বন্ধ করে ম্যাচের ফল বলে দেওয়া যেত। সেখানে বাংলাদেশের পরাজয়ই ছিল নিয়তি নির্ধারিত। কিন্তু গত কয়েক বছরে পাল্টে গেছে পৃথিবী। বাংলাদেশের ক্রিকেটও। এখন চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায় না বাংলাদেশ হারছে।
বরং ২০০৭ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই পেয়েছে অন্য মাত্রা। দু’দেশের সমর্থকদের কাছেও এটি দারুন রোমাঞ্চকর। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে। এরপর ফের ওয়ানডেতে ভারত-বাংলাদেশ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এবার স্বাগতিক বাংলাদেশ। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। তার আগে বাংলামেইলের পাঠকদের জন্য থাকছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত সেরা পাঁচ দ্বৈরথ।
২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভারত বধ
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্মৃতি রোমন্থন করলে চোখের সামনে ‘পোর্ট অব স্পেন’ ভেসে না উঠেই পারে না। ২০০৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া অবাক বিস্ময়ে অবলোকন করেছিল কিভাবে বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল ভারত। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি রাহুল দ্রাবিড়ের দল। শেষ ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিশ্বকাপকে বিদায় বলতে হয় তাদের। বাংলাদেশ উঠে যায় সুপার এইটে।
টস জিতে রাহুল দ্রাবিড় বাংলাদেশ দলকে রানের পাহাড়ে চাপা দিতে চেয়েছিলেন! দ্রাবিড়ের সিদ্ধান্তকে বুমেরাং করতে খুব বেশি সময় নেননি মাশরাফি-রাজ্জাকরা। স্কোরবোর্ডে ৬ রান উঠতেই মাশরাফির স্বপ্নের এক ডেলিভেরিতে বোল্ড বিরেন্দর শেবাগ (২)। সপ্তম ওভারে রবিন উথাপ্পাকে (৯) ফিরিয়ে রীতিমতো উড়েছেন মাশরাফি। ৪০ রানের মাথায় টেন্ডুলকারকে (৭) মুশফিকের ক্যাচ বানানোর পর আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি ভারত। যা একটু লড়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি (৬৬) এবং যুবরাজ সিং (৪৭)। মাশরাফি ৩৮ রানে ৪টি, রফিক ৩৫ এবং রাজ্জাক ৩৮ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ৩টি করে উইকেট।
১৯২ রান তাড়া করতে নেমে ভয়ডরহীন সব শর্ট উপহার দিয়েছিলেন ১৭ বছরের তামিম ইকবাল। সবচেয়ে বেশি ঝড়টা গেছে জহির খানের ওপর দিয়ে। ৫৩ বলে সাত চার, এক ছক্কায় ৫১ রান করে তামিম জানান দেন তার আগমনী বার্তা। কম যাননি মুশফিকুর রহীম এবং সাকিব আল হাসানও। ১০৭ বলে মুশফিকের ৫৬ রানের ইনিংসে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক দ্রাবিড়কেও মুগ্ধ করেছিল। ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৪৪ রান দেওয়া সাকিব ব্যাট হাতে সে দিন করেছিলেন ৮৬ বলে ৫৩। তাতেই বাংলাদেশ ৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
২০০৭ বিশ্বকাপের প্রতিশোধ ২০১১ বিশ্বকাপে
২০১১ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছিল মিরপুর শেরে-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। ম্যাচের আগে বারবার বাংলাদেশের সামনে ফিরে এসেছে ২০০৭ বিশ্বকাপ স্মৃতি। কিন্তু ওই বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি সাকিব আল হাসানের দল। বিরেন্দর শেবাগের ১৭৫ এবং বিরাট কোহলির ৮৩ বলে সেঞ্চুরিই ম্যাচ থেকে বাংলাদেশকে ছিটকে দেয়। ভারত করেছিল ৩৭০ রান। জবাবে বাংলাদেশ করে ২৮৩ রান। ৮৭ রানের জয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে ভারত। শেষ পর্যন্ত ট্রফিও চলে যায় তাদের দখলে।
শচীনের সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি ভেস্তে দিল বাংলাদেশ
২০১৪ এশিয়া কাপ শুরুর আগে থেকেই আলোচনা, তাহলে কী বাংলাদেশের মাটিতেই হতে যাচ্ছে মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি। হলোও তাই। তাও আবার স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষেই। তখনও শচীন বোধহয় জানতেন না তার শততম সেঞ্চুরিটি উদ্যাপন করতে দেবেন না সাকিব-মুশফিকরা। ভারত আগে ব্যাট করে তুললো ২৮৯। কিন্তু বাংলাদেশ ওই রান টপকে গেল ৪ বল হাতে রেখেই। শচীনের দিনে নায়ক হলেন সাকিব-মুশফিকরা। টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার আগেই বিদায় নিতে হয় ভারতকে। আর বাংলাদেশ প্রথমবার এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে যায়। যদিও ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে বেদনাবিধুর পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয় স্বাগতিকরা।
ভারতকে ১০৫ রানে অলআউট করেও হারলো বাংলাদেশ
২০১৪ সালে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারত জাতীয় দলের মোড়কে পাঠিয়েছিল তাদের ‘বি’ দল। যে দলের অধিনায়ক ছিলেন সুরেশ রায়না। ওই সিরিজে বৃষ্টিবিঘিœত দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ১০৫ রানে অলআউট করে দিয়েও বাংলাদেশকে হারতে হয়েছে ৪৭ রানে। ২৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সবাইকে চমকে দেন তরুন তাসকিন আহমেদ। পরে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় তাকেও ছাপিয়ে যান স্টুয়ার্ট বিনি। তিনি মাত্র ৪ রান দিয়ে তুলে নেন ৬ উইকেট। বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় মাত্র ৫৮ রানে।
ভারত-বাংলাদেশ বিতর্কিত কোয়ার্টার ফাইনাল
সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের (২০১৫) বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল বিতর্কে ভরা। এ ম্যাচে বাজে অ্যাম্পায়ারিংয়ের শিকার হয় বাংলাদেশ। বিশেষ করে রোহিত শর্মার বিপক্ষে রুবেল হোসেনের করা সেই ‘নো’ বলটি নিয়ে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটাররাও সমালোচনা করেছেন। তখন আউট হলে রোহিত ১৩৭ রান করতে পারতেন না। আর ভারতও স্কোরবোর্ডে ৩০২ রানের পুঁজি পেত না। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময়ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আলিম দার এবং ইয়ান গোল্ড।
মাহমুদুল্লাহর ক্যাচ সীমানায় দাঁড়িয়ে নেওয়া শিখর ধাওয়ানের পা দড়ি স্পর্শ করেছিল কি না টিভি রিপ্লের বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখানো হয়নি। আম্পায়ারদের এমন পক্ষপাতিত্ব মেনে নেননি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্র্ডের (বিসিবি) সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং তখনকার আইসিসি প্রেসিডেন্ট আ হ ম মুুস্তফা কামালও। তিনি প্রকাশ্যেই এ সম্পর্কে কথা বলেছিলেন। বিষয়টা সহ্য হয়নি আইসিসি চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসনের। কামালকে শায়েস্তা করতে তিনি ফাইনাল মঞ্চে বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দিতে দেননি কামালকে। অথচ নিয়মানুযায়ী বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার কথা ছিল কামালেরই। এর জেরে আইসিসি প্রেসিডেন্টের পদ থেকেই ইস্তফা দেন তিনি।