তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : ‘মেক বাই বাংলাদেশ‘ এই স্লোগানে ১৫ জুন থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে তিনদিনের আইসিটি এক্সপো। এবারই প্রথম দেশের হার্ডওয়্যার শিল্পকে উৎসাহিত করতে প্রযুক্তি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু মেলায় দেশে তৈরি কোনো হার্ডওয়্যার পণ্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। কেবলমাত্র টেসিস ছাড়া। একমাত্র টেসিসই দেশি পণ্য হিসেবে বিবেচিত। কেননা, টেসিস দোয়েল নামে বেশ কয়েকটি মডেলের ল্যাপটপ তৈরি করেছে।
টেসিসের তৈরি ল্যাপটপ দেশে তৈরি পণ্য বলা হলেও এর বেশির ভাগ যন্ত্রাংশ তথা হার্ডওয়্যার বিদেশ থেকে আমদানী করা। তবে ভরসার কথা হচ্ছে দোয়েল ল্যাপটপের কিছু যন্ত্রাংশ দেশেই তৈরি। এসব হার্ডওয়্যার সংযোজন হয়েছে টঙ্গীর টেসিসের কারখানায়।
অন্যদিকে ওয়ালটনের ট্যাব এবং স্মার্টফোন দেশি পণ্য বলে বিবেচিত হয়। এরাও টেসিসের মতনই। অথাৎ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানী করে দেশে সংযোজন করে।
এসব দিক হিসেবে করলে আইসিটি এক্সপোতে দেশিও হার্ডওয়্যার পণ্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে মান রেখেছে দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মেলা উপলক্ষ্যে ইনোভেশন জোন তৈরি করা হয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি পণ্যের প্রজেক্ট উপস্থাপন করেছে।
এসব প্রজেক্টে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলেজেন্সি সম্বলিত রোবট, কোয়াড কপ্টার, বায়োনিক হ্যান্ড, ভূমিকম্প সর্তকতার ডিভাইস, হোম অটোমেশন সিস্টেম, মেরিন সিকিউরিটি ডিভাইসসহ বেশ কিছু উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হয়েছে।
এসব প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, এসব রোবোটিক প্রজেক্ট তৈরির জন্য কাঁচামালের অনেকটা ধোলাইখাল এবং টিপু সুলতান রোড থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। কিছু কিছু জিনিস মডিফাই করে নিতে হয়েছে। আবার কিছু কিছু সেন্সর বিদেশ থেকে আনাতে হয়েছে।
বুয়েটির ইলেটিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রোনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, ‘তরুণ প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন প্রজেক্ট তৈরি করছে। এদের মধ্যে রোবট এবং কোয়াড কপ্টারের সংখ্যাই বেশি। এসব রোবট তৈরির কাঁচামাল সচরাচর পাওয়া যায় না। কিছুটা পাওয়া গেলেও বাকিটা মডিফাই করে নিতে হয়। কিংবা বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। এতে করে প্রোটোটাইপ তৈরির খরচটা বেড়ে যায়।
একই কথা জানালেন ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহী। তিনি বলেন, ‘প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন অনেক কিছু উদ্ভাবনের ইচ্ছে রয়েছে। কিন্তু এসব এসব তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল দেশে খুব একটা মেলে না। ফলে স্থানীয় মেকানিক্সদের দ্বারস্থ হতে হয়। তাদের সাহায্যে হার্ডওয়্যার মডিফাই করিয়ে নেয়া যায়।
মেলায় ঘুরতে এসেছিলেন ইউল্যাবের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত। তিনি বলেন, ‘শুনেছি এই মেলা হার্ডওয়্যার শিল্পকে চাঙ্গা করার জন্য আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু আদতে দেশে তেমন কোন হার্ডওয়্যার শিল্প নেই। কেবলমাত্র মেলায় প্রকৌশল শিক্ষার্থীরাই দেশে তৈরি প্রযুক্তি পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছে। প্রশংসা তাদেরই প্রাপ্য।

