আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাল্টিক এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে ভারি সামরিক সরঞ্জামাদি মজুদের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের ঘটনায় ওই অঞ্চলের অস্বস্তিতে থাকা দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে চলেছে ওয়াশিংটন। উর্ধ্বতন এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পত্রিকার বরাত দিয়ে রোববার এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
শনিবার ওই কর্মকর্তাটি বলেছেন,‘আমরা ওইসব দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরঞ্জামাদি মজুদ করব।’ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই অঞ্চলে ট্যাঙ্ক, সামরিক যানসহ আরো বেশ কিছু ভারি অস্ত্র মোতায়েন করার পরিকল্পনা করেছে পেন্টাগন। এছাড়া ওই দেশগুলোতে ৫ হাজারের মত মার্কিন সেনাও মোতায়েন করা হবে।
তবে পত্রিকায় প্রকাশিত ওই রিপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তাটি।
পত্রিকাটি আরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের পর পূর্ব ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত ওই দেশগুলোতে এটিই হবে ওয়াশিংটনের ভারি অস্ত্রশস্ত্র মজুদের প্রথম ঘটনা। বলা বাহুল্য ওই দেশগুলো একসময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
২০১৪ সালের মার্চে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলটি রাশিয়া দখল করে নেয়ার পর ইউরোপীয়ান মিত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থে ওই পরিকল্পনাটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ কার্টার এবং হোয়াইট হাউসে এটি অনুমোদিত হওয়ার পর ন্যাটোর আসন্ন বৈঠকে এর ওপর আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি মাসে ব্রাসেলসে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের ওই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে সামরিক সরঞ্জামাদি প্রেরণের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের এক মুখপাত্র। পরিকল্পনা মুখপাত্র কর্নেল স্টেভ ওয়ারেন বলেছেন, যুক্তরাষ্টের সেনাবাহিনী গত কয়েক বছর ধরেই ন্যাটোর অংশীদার এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মিলে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং মহড়া জোরদার করেছে । এখন তারা কোন কোন দেশে এসব সমরাস্ত্র মোতায়েন করবে তা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে কখন এবং কোন কোন দেশে এগুলো মোতায়েন করা হবে এর ওপর এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলেও ওই মুখপাত্র জানিয়েছেন। অবশ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাল্টিক অঞ্চলের লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া এবং ইস্তোনিয়ায় বেশ কিছু অস্ত্র রাখা হবে। এছাড়া এই তিনটি দেশে দেড়শ করে সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। অন্যদিকে পূর্ব ইউরোপের পোল্যান্ড, রুমানিয়া, রুলগেরিয়া ও হ্যাঙ্গেরিতে মোতায়েন করা হবে সাড়ে সাতশ করে মার্কিন সেনা ।

