চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : সঠিক ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদেরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশি পছন্দ করেন বলে জানিয়েছেন ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ।
তিনি বলেন, ‘সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহসিকতার ভূমিকা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সঠিক সিদ্ধান্তকারীদের পছন্দ করেন। যারা সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ভয়ে এগুচ্ছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাদের পাশে এসে সাহসী কাজে উৎসাহ যোগাচ্ছেন।’
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অর্পিত সম্পত্তি বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগের সকল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার, উপ-ভূমি সংস্কার কমিশনার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), চার্জ অফিসার, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার এবং সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারগণের সমন্বয়ে অর্পিত বিষয়ক দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
ভূমি মন্ত্রী বলেন, ‘জনস্বার্থের দিকটি অধিকতর বিবেচনায় রেখে বিদ্যমান আইন ও বিধি মতে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত না হয়ে সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার, সন্ত্রাস দমনে, বৈষম্য দুরীকরণে, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও মানবিকতা বিরোধী শত্র“দের বিরুদ্ধে বহু প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে এদেশকে সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আপনাদেরকেও প্রধানমন্ত্রীর কাজের মতো সাহসী থাকতে হবে। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়ে সকল প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে ওঠতে হবে। তবেই এদেশ সোনার বাংলা তথা ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে স্বার্থক পাবে।’
কর্মশালার বিশেষ অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘প্রত্যেকের নিজ নিজ জায়গা থেকে জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা রয়েছে। তিনি বলেন, কার সময়ে কে কতটুকু কাজ করলেন তা লিপিবদ্ধ করে রাখবো আমরা। এটাকে একরকম এসিআর হিসেবে ধরে নিতে পারেন।’
তিনি ভূমিকে ডিজিটাইজেশন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘ভূমিকে ডিজিটাইজেশন করার মহাপরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। সময়ের সাথে আগামির পথে আমরা ছুটে চলেছি। কাজে দুর্নাম বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’
পরে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের সর্বশেষ সংশোধনী ও পরিপত্রসহ আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসমূহ উপস্থাপন করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের সুবিধা অসুবিধাগুলোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
চট্টগ্রাম অতিরিক্ত বিভাগীয় কশিনার মো. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (আইন) এস.এম. মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন ভূমিমন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ হাবিবুল কবির চৌধুরী। পরে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন সম্পর্কিত মুক্ত আলোচনা হয়।

