অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, একটা সময় অর্থের অভাবে পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারছিলেন না তিনি। ছাত্র অবস্থায় মন্ত্রী এই সমস্যায় পড়লে গ্রামের একজন ধনী মানুষ তাকে ফরম পূরণের টাকা দেন।
শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে দুদিনের যাকাত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে নিজের অতীতের এই গল্প তুলে ধরেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘অর্থের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আমার নাম তিনবার কাটা গেছে। সমাজের ধনী মানুষেরা অর্থ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খাতায় পুনরায় নাম উঠিয়ে দিয়েছেন। যাকাতের মাধ্যমে জীবনে আজ আমি এখানে আসতে পেরেছি।’
সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজম্যান্ট, এক্সিম ব্যাংক, ইসলামিক রিলিফ ইউকে এবং মুসলিম এইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগের দুই দিন ব্যাপী এ যাকাত মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেকিং এ ডিফরেন্স উইথ যাকাত- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এবারের যাকাত মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে পারছিলাম না অর্থের অভাবে। সেই ফরম ফিলাপের টাকা দিয়েছে আমার গ্রামের একজন ধনী মানুষ। তিনি বর্তমানে জীবিত নেই। তারা আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’
তিনি বলেন, ‘পবিত্র কোরআন, হাদীসে বহু জায়গায় স্পষ্ট করে যাকাত দেয়ার কথা বলা হয়েছে। আমরা ব্যবসা করার জন্য যেমন বিনিয়োগ করে থাকি। তেমনি যাকাত এক ধরনের বিনিয়োগ। এটা পরকালের জন্য বিনিয়োগ। সম্পদকে বৈধ করতে হলে যাকাত দিতে হবে। সব মানুষকে বুঝিয়ে যদি যাকাত আদায়ের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা যায় তাহলে সমাজের উন্নতি আরো ত্বরান্বিত হবে।’
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘সরকারিভাবে যাকাত আহরণ করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বণ্টনের জন্য ভবিষ্যতে কাজ করবো। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের যে বাজেট পেশ করা হয়েছে তাতে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করার জন্য বেশকিছু কর্মসূচি ও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সরকারের বলিষ্ট অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছি। এখন সরকারের পাশাপাশি যদি বেসরকারিভাবে যাকাতভিত্তিক প্রকল্পের দ্বারা দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেয়া হয় তা হবে একটি পরিপূর্ণ কাজ।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সাবেক সেনাপ্রধান ও মন্ত্রী লে. জে (অব.) এম নূরুদ্দীন খান বলেন, ‘দেখতে দেখতে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠার তিন বছর পার করলো। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি যাকাত সঠিকভাবে আহরণ করে সুষম বণ্টন করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি গরীব শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিশেষ করে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, টেলিফোন অপারেটিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গরীবদের চাকরি দেয়ার সহায়তা করছে। এছাড়া মেধাবী ও গরীব শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম্পিউটার বিতরণ করছে। একই সঙ্গে মেধাবী ও গরীব শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করছে প্রতিষ্ঠানটি। আমরা চাই যাকাতভিত্তিক আরো এমন সংগঠন সৃষ্টি হোক। যার মাধ্যমে গরীব মানুষ উপকৃত হবে। যার ধারাবাহিকতায় সমাজ তথা রাষ্ট্রের উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।’
মেলায় যাকাত সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করা হবে। থাকবে নারীদের জন্যও বিশেষ অধিবেশন। শিশু-কিশোরদের জন্য থাকবে কিরাত প্রতিযোগিতা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সালাউদ্দিন কাসেম খান, নিয়াজ রহিম, সবুর খান, শোয়েব চৌধুরী, নূরুল ফজল বুলবুল।

