ঢাকাFriday , 12 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জমে উঠেছে চাঁপাইয়ের আমবাজার

Link Copied!

manggoচাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম ব্যবসায়ীদের আগমনে প্রাণচঞ্চল্য ও জমে উঠতে শুরু করেছে আমের বাজার। তবে তুলনামুলকভারে দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা খুশি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন জাতের আমের সমারোহ ঘটলে আমের দাম আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তীব্র তাপদাহের কারণে আম দ্রুত পাকায় জেলার বৃহত্তম আমবাজার কানসাট, শিবগঞ্জ, রহনপুর, মল্লিকপুর, ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশন, সদরঘাট ও তহাবাজারে গোপালভোগ, খিরসাপাত, খুদি খিরসা, বোম্বে খিরসা, মধু চুষকি, সাটিয়ার কেড়া, বৃন্দাবনী, টিক্কাফারাস, কালিভোগ, রাণীভোগসহ নাবী জাতের গুটি আম বাজারে বেশ ভালোই উঠেছে।
গুটি জাতের বৃন্দাবনী, রাণীভোগ, কালিভোগ আম ১২শ থেকে ১৬শ, গোপালভোগ ১৩শ থেকে ২ হাজার, খিরসাপাত ১৩শ থেকে ১৬শ টাকা দামে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে দাম কম হওয়ায় এবার আম ব্যবসায়ীরা মোটেও খুশি নয়।
কানসাটের আম ব্যবসায়ী আনসারুল হক জানান, জুনের মধ্যভাগে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে পরিপূর্ণ হয়ে উঠলে দাম আরো কমে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জেলার ৫টি উপজেলার ২৪ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৯ লাখ আমগাছ রয়েছে। এবার তেমন ঝড়-ঝাপ্টা না হলেও কয়েক দফা বৃষ্টিপাতের কারণে আমের আকার, রং ও স্বাদ বেশ ভালো হওয়ায় কৃষকরা অনেকাংশে লাভবান হবে। তবে চলতি মৌসুমে তেমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এবার জেলায় আমের প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
শহরের তহাবাজারের আম ব্যবসায়ী ইসরাইল হক জানান, ভোর থেকে গভীর রাত থেকে পর্যন্ত আমচাষী ও ব্যাপারীদের ভিড়ে এখন মুখরিত হয়ে উঠতে শুরু করেছে আমের বাজারগুলো। বাগান থেকে আম পাড়া, টুকরি তৈরি, বাঁধাই ও ট্রাক বোঝাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মেতে উঠেছে বাজারের লক্ষাধিক আমচাষী ও ব্যবসায়ী। আম কেনার জন্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চৌমুহনী, ফেনী, সিলেট, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে জেলায় আসা শুরু করেছে।
কানসাট আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী এমদাদুল হক জানান, জেলার উৎপাদিত আমের ৫০ শতাংশ শিবগঞ্জ উপজেলায় উৎপাদিত হয়। কানসাট বাজারটি উপজেলার মধ্যস্থানে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন প্রচুর আমের আমদানি ঘটে এবং বিক্রি হয়। জেলার ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও সদর উপজেলার উৎপাদিত আমের একটি বড় অংশ বিক্রি পর্যন্ত হয় কানসাট বাজারে। কানসাটে প্রায় ৩শ ৫০টি আমের আড়তে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হচ্ছে। এ জেলার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত আম পরিবহনে সহজলভ্য হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে থেকে এখন প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যাচ্ছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য বড় বড় আমবাগানগুলো থেকে সরাসরি আম ব্যবসায়ীরা ট্রাক বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
শহরের আম ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলী জানান, জেলা শহরের প্রধান আম বাজারটি বসে তহাবাজারের মহানন্দা নদীর তীরে। প্রাচীন এই আমের বাজারে সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন নৌকায় বিপুল পরিমাণ আম আসে। এখানে প্রতিদিন আম বিক্রি হয় ৫০ লাখের উপরে।
রহনপুর রেলস্টেশনের সামনে প্রায় ১শ ৫০টি ও সীমান্তবর্তী উপজেলা ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশন বাজারে ৫০টি আড়তে প্রতিদিন আমের বেচাকেনা হয় প্রায় ১ কোটি টাকা বলে জানান আম ফাউন্ডেশনের সম্পাদক মোজাম্মেল হক চুটু। পাশাপাশি পরিবহন, হোটেল ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরো ব্যবসা হবে কয়েক কোটি টাকার। সেই সঙ্গে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কোটি কোটি টাকার লেনদেনে চাঙ্গা হয়ে উঠবে জেলার গ্রামীণ অর্থনীতি।