ঢাকাFriday , 12 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদ-বর্ষা আসন্ন, নৌ-নিরাপত্তায় প্রস্তুতি কতোখানি

Link Copied!

lounchনিজস্ব প্রতিবেদক : বর্ষা মওসুম এলেই জলপথে দুর্ঘটনা বাড়তে থাকে। প্রতি বছরই শত শত মানুষ প্রাণ হারায়। আর এই মওসুমে আবার ঈদ পূজার মতো পার্বন থাকলে তো কথাই নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ নৌযান, ধারণক্ষমতা চেয়ে বেশি যাত্রী বহন, মাঝ নদীতে পাল্লা দিয়ে নৌযান চালানো ইত্যাদি কারণে ঘটে এসব দুর্ঘটনা। এছাড়া এর পেছনে রয়েছে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতি।
এবারো আসন্ন ঈদ ও বর্ষায় লঞ্চডুবি রোধে (নৌ-নিরাপত্তায়) সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বা কোনো পূর্ব প্রস্তুতি কোনটাই নেই। ফলে সারা দেশে একটি নিরাপদ নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকারের কার্যকর কোনো ভূমিকা দৃশ্যমান নয়।
ক্ষমতাসীন মহাজোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে নদী খনন, বিলুপ্ত নৌপথ পুনরুদ্ধারসহ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে অনেক প্রকল্প প্রণয়ন এবং বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় চলমান থাকলেও কার্যত নৌ-নিরাপত্তার মৌলিক কাজগুলোতে এখনো হাতই দেয়া হয়নি।
টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হলেও মহাজোট সরকারের দীর্ঘ ছয় বছরে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের জনবল কাঠামো সংশোধন করে নৌখাতের সবচেয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটিকে শক্তিশালী করতে পারেনি। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ করে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে শক্তিশালীকরণ সম্পর্কিত সব পরিকল্পনাই সভা-সমাবেশ আর টেলিভিশনের মিনি পর্দায় বন্দি হয়ে আছে।
অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই যতোটা সম্ভব নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়েও সরকারের ভূমিকা সন্তোষজনক নয় বলে অনেকে মনে করছেন। গত দুই দশক যাবৎ ঈদ মৌসুমে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর তৎপরতা ও কর্মকাণ্ডের ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নৌ মন্ত্রণালয়সহ সংশিষ্ট মহলগুলো নৌ নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠে।
ঈদের ১৫-২০ দিন আগে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সমন্বয় একটি প্রস্তুতি সভা হয়। সেখানে দুর্ঘটনা প্রতিরোধসহ নৌপথ ও নদীবন্দরগুলোর অধীন সব টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে ওই প্রস্তুতি সভার অধিকাংশ সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। আর ঈদের মওসুম শেষ হলেই কর্তৃপক্ষ যেন সবকিছু ভুলে হাতগুটিয়ে বসে থাকে।
দুর্ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দিলে এবং সে অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে দুর্ঘটনার হার অনেক কমে আসবে বলে নৌ-বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কিন্তু দুর্ঘটনার প্রকৃত তথ্য গোপন এবং অদৃশ্য শক্তির ইশারায় পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করার কারণেই নৌদুর্ঘটনা কমছে না।
১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গত ২১ বছরে সারাদেশে লঞ্চডুবির ঘটনায় ৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় দৃশ্যমান নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৯৭ এবং নিখোঁজ ১ হাজার ৩২১ জন।
লঞ্চ দুর্ঘটনার পরবর্তী সময় নিখোঁজদের স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েও কাউকে জীবিত কিংবা মৃত উদ্ধার করতে পারেননি। ফলে বিষয়টি স্পষ্ট যে, ওইসব হতভাগার নিশ্চিত সলিল সমাধি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম, দুর্ঘটনা পরবর্তী পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষার প্রবণতা দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিতকরণে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করা হলে দুর্ঘটনা কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
ঝড়ো মওসুম চলছে, দু’মাস পড়েই ঈদ; তাই নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এখন থেকেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে পরামর্শ দিয়েছেন জল পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক।
তার সঙ্গে সহমত পোষণ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বাদল বলেন, ‘কালবৈশাখী মৌসুম চলমান, ঈদ মৌসুম আসন্ন, লঞ্চ দুর্ঘটনা রোধ না হলে নৌপথ হবে বিপন্ন। এখন থেকেই নৌদুর্ঘটনা রোধে সরকারকে স্থায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি করে দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না।’
সড়ক দুর্ঘটনার তুলনায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক বেশি। তাই এখন থেকেই লঞ্চ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব মহলকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস।
এর আগে নানা তদন্তে এবং বিভিন্ন সংস্থার চালানো অনুসন্ধানে লঞ্চ দুর্ঘটনার ১৮টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো: ১. নৌযানের অবকাঠামো ও কারিগরি অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না করা। ২. টার্মিনাল ও ঘাট ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ও গাফিলতি। ৩. ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি যাত্রী ও অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন। ৪. নৌপথে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম না থাকা। ৫. নৌযান চলাচলের ওপর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের তদারকির অভাব। ৬. পরীক্ষায় দুর্নীতির মাধ্যমে অদক্ষদের মাস্টারশিপ ও ড্রাইভারশিপ সনদ প্রদান। ৭. দক্ষতা যাচাই না করে মাষ্টার ও ড্রাইভার (চালক) নিয়োগ। ৮. অর্থ সাশ্রয়ের জন্য অল্প বেতনে সনদবিহীন মাস্টার ও ড্রাইভার নিয়োগ। ৯. অনুমোদিত নকসা যথাযথভাবে অনুসরণ না করে নৌযান নির্মাণ। ১০. নৌপথে দিক-নির্দেশক বিকন ও বয়াবাতি না থাকা। ১১. ত্রুটিপূর্ণ নকসা প্রণয়ন ও তা অনুমোদন। ১২. অবকাঠামোগত ও যান্ত্রিক ত্রুটি সঠিকভাবে পরীক্ষা ছাড়াই ফিটনেস (সার্ভে) ও নিবন্ধন প্রদান। ১৩. সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করে রাতে বালুবাহী ও তেলবাহী ছোট নৌযান চলাচল। ১৪. চলাচলরত বিপুলসংখ্যক অবৈধ (নিবন্ধন-ফিটনেসবিহীন) নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা। ১৫. আবহাওয়ার পূর্বাভাষ যথাযথভাবে অনুসরণ না করা। ১৬. নাব্যতা সংকট ও ডুবোচর। ১৭. নদীতে মাছ ধরার কারেন্ট জাল বিছিয়ে রাখা এবং ১৮. আকষ্মিক ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর ম. মোজাম্মেল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার দপ্তর থেকে জানানো হয়, তিনি মিটিংয়ে আছেন। এখন কথা বলা যাবে না।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রতি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে থাকি। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুয়াযী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। এছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত স্বজনদের আমরা সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকি।’ কিন্তু আসন্ন বর্ষা মওসুম ও ঈদের জন্য আলাদা কোনো প্রস্তুতি আছে কি না সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই তার।