নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালালি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের দ্বিগুণ। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট ১৮ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লাকে মূল জ্বালানি নির্ধারণ করে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
এছাড়া উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় বিদ্যুৎ আমদানি, সঞ্চালন লাইন স্থাপন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দিনের পুঞ্জিভূত সমস্যার দ্রুততর সমাধান করতে গিয়ে বিদ্যুৎ খাতে প্রথমদিকে আমাদের স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যা এখন অনেকটাই দূর হয়েছে। আমরা এখন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। ২০১৫ সালের পর কয়লাকে মূল জ্বালানি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন পরিকল্পনা চুড়ান্ত করা হয়েছে।’
প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট ১৮ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে সংশোধিত বাজেট হচ্ছে ১ হাজার ৫২ কোটি টাকা। চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটের চাইতে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে আগামী অর্থবছরের বাজেটে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে উন্নয়ন বাজেট ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের জন্য জন্য ১৬ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা, যা মোট উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) ১৭ শতাংশ এবং জ্বালানি খাতের জন্য ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা, যা উন্নয়ন বাজেটের ২ দশমিক ১ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী বছর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লাকে মূল জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কয়লাভিত্তিক রামপাল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি গঠন, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংস্থাপনে জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি, চীন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের আর্থিক সহযোগিতায় মহেশখালীতে ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতার চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং পটুয়াখালীর পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
একইসাথে সরকারি ও বেসরকারিখাতে ১ হাজার ৪১১ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে।
তবে কয়লাকে মূল জ্বালানি ধরার হলেও কয়লার উৎস বা আমদানির ক্ষেত্রে কোন দেশ থেকে আনা হবে এই বিষয়গুলো এখনও নির্ধারণ করতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। এছাড়া বেসরকারি খাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কোনো অগ্রগতিও নেই।
২০৩০ সালের মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ থেকে সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ১৩টি প্রকল্পের জন্য ৪ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২৬টি প্রকল্পের জন্য ৫ হাজার ৩১২ কোটি টাকা, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের ১১টি প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা, ডিপিডিসির দুটি প্রকল্পের জন্য ৫১৫ কোটি টাকা, ইজিসিবির দুটি প্রকল্পের জন্য ৫২০ কোটি টাকা, এপিএসসির একটি প্রকল্পের জন্য ৬৬০ কোটি টাকা, ঢাকা পাওয়া ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাতটি প্রকল্পের জন্য ৭৯৯ কোটি টাকা, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির তিনটি প্রকল্পের জন্য ৯৫ কোটি টাকা, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির তিনটি প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা এবং কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির একটি প্রকল্পের জন্য ২৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে জ্বালানি খাতে প্রস্তাবিত উন্নয়ন বাজেটে পেট্রোবাংলার ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরশেনের (বিপিসি) পাচঁটি প্রকল্পের জন্য ৩২৭ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের দুটি প্রকল্পের জন্য ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

