নিজস্ব প্রতিবেদক : জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ গত অর্থবছরের তুলনায় ৮৪ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ২০ কোটি ২৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫৪৪ কোটি ৬২ লাখ ৯৯ টাকা অনুন্নয়ন এবং ৪৭৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।
বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সময়োপযোগী পরিবেশ সৃজন এবং পরিবর্তিত জলবায়ুর বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রশমনে বন সম্প্রসারণ ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপর বর্তমান সরকার জোর দিয়েছে। জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে ৩৪টি বনকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেশের অবক্ষায়িত বন, প্রান্তিক ভূমি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমিতে ব্যাপকহারে বনায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে সামাজিক বনায়নকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইকো-ট্যুরিজমের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্পের প্রসারে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গাজীপুরে আন্তর্জাতিক মানের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক ও চট্টগ্রামে শেখ রাসেল অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্ক ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে।
সিলেটেও ইকো পার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। অচিরেই এ পার্ক চালু করা হবে। এ ছাড়া সুন্দরবন পর্যটন নীতিমালাও অনুমোদিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুহিত আরো বলেন, পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম উৎসাহিত করতে সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, এফ্লুয়েন্ট প্ল্যান্টের মত পরিবেশবান্ধব পণ্য ও খাতগুলোতে অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি ঘূর্ণায়ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে।
পরিবেশ দূষণ রোধে রাজধানীর হাজারীবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা চামড়া শিল্প সাভারে স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই স্থানান্তর আগামী অর্থবছরে সম্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস ও জ্বালানি সংরক্ষণের উদ্দেশে ইতোমধ্যে দেশে প্রায় ২০ লাখ ধোঁয়ামুক্ত উন্নত চুলা স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি পরিবেশবান্ধব চুলা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় পাটজাত পণ্য ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নদীর তীর ও রাস্তাঘাটের ভাঙন রোধে পরিবেশবান্ধব জুট-জিও-টেক্সাইল উদ্ভাবনপূর্বক বাংলাদেশ ও ভারতে সফলভাবে ফিল্ড ট্রায়েল সম্পন্ন করা হয়েছে।

