অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে যে ব্যয়ের আকার ধরা হয়েছে তা পূরণ করতে অর্থের যোগান কোথা থেকে হবে সে ব্যাপারে কোন স্পষ্ট ধারণা দেয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি অর্থনীতি গবেষণা সংস্থা সিপিডি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবারের বাজেট নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘সামগ্রিক আয় সংস্থান করতে গিয়ে বৃহৎ ব্যয় সংকুলান করার জন্য বিভিন্ন ধরনের আয়ের উৎসে অবাস্তব ধরনের বৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এবারের বাজেটের যে স্ফীতি, তার বাস্তবসম্মত পরিসংখ্যান ভিত্তি আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। কিছু কিছু জায়গায় ব্যাপক ধরনের স্ফীতি দেখানো হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কী ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যম অর্জিত হবে- এ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।’
এ বাজেট বৈজ্ঞানিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলছে না বলেও মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বিশাল এ বাজেটে ব্যয় করা হবে তিনটি ভাগে। যেখানে অনুন্নয়ন রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭১ কোটি, উন্নয়ন ব্যয় ১ লাখ ২ হাজার ৫৫৯ কোটি এবং অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে পুরো ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকাই ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশাল এ ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। যেখানে এনবিআরের মাধ্যমে কর আদায় করা হবে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। আর এনবিআর বহির্ভূত কর আদায়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। এছাড়া কর ব্যতীত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা।
মোট আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা পুরো বাজেটের মোট আকার থেকে ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা কম; আর টাকার এ পরিমানটিই হলো বাজেট ঘাটতি। যা চলতি অর্থবছরে ছিল (সংশোধিত) ৭৬ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। এ ঘাটতি বাজেটের আকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
এ ঘাটাতি বাজেট পূরণ করার জন্য সরকার নির্ভর করবে বৈদেশিক বিভিন্ন উৎস ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। বৈদেশিক উৎস থেকে সরকার নেবে ৩০ হাজার ১৩৪ কোটি এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেবে ৫৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যে পরিমান টাকা নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে তার বেশিরভাগটিই ঋণ নেবে ব্যাংকিং খাত থেকে। এখানে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা।
উন্নয়ন ব্যয়ের ৯৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে। আর এবারে মূল্যস্ফীতি আরও কমিয়ে অনার জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬.২ শতাংশে।

