ঢাকাTuesday , 2 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষকের প্রেম প্রত্যাখ্যান, অতঃপর ছাত্রী ফেল!

Link Copied!

naril-sscনড়াইল প্রতিনিধি : প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল ফারিয়া ইসলাম নামের এক স্কুলছাত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় সে এবারের এসএসসি পরীক্ষায়ও ভালো ফলাফল করবে এমনটাই প্রত্যাশা করেছিল স্কুলের শিক্ষকসহ অভিভাবকরা। কিন্তু ভালো ফলাফল তো দূরের কথা সদ্য প্রকাশিত এসএসসির ফলাফলে দেখা গেল সে অকৃতকার্য হয়েছে। আর এর পেছনে কলকাঠি নাড়িয়েছেন তার স্কুলেরই সাবেক এক শিক্ষক। যিনি তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ছাত্রী প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।
এতে ওই শিক্ষক প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে মেধাবী ছাত্রী ফারিয়ার এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে কাটাকাটি, সেটকোড পরিবর্তন ও পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষার ব্যবহারিকের নম্বর কমিয়ে দিয়ে বোর্ডে পাঠিয়েছেন। যার কারণে সে অকৃতকার্য হয়েছে।
এমন অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা জহিরুল ইসলাম। মেয়ের ফলাফল অকৃতকার্য আসায় বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে অভিযোগ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নড়াইল প্রেস ক্লাবেও সাংবাদিকদের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ তুলে ধরেন।
ওই শিক্ষক হলেন নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ফসিয়ার রহমান। যাকে ইতোপূর্বে ওই ছাত্রীকেই উত্ত্যক্ত করার দায়ে মেহেরপুরে একটি স্কুলে বদলি করা হয়েছিল। পরে তিনি সেখান থেকে বদলি হয়ে বর্তমানে নড়াইল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা জহিরুল ইসলাম জানান, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী ফারিয়া ইসলামের দশম শ্রেণীতে ক্লাস রোল ছিল ২। এবার এসএসসি (রোল নং ১১২৪২৮ এবং রেজিঃ নং ১২৯৩৬৫৪৪৮০) পরীক্ষায় অধিকাংশ বিষয়ে ‘এ’ প্লাস পেলেও শধুমাত্র পদার্থ বিজ্ঞানেই সে অকৃতকার্য হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, তার মেয়ে ওই শিক্ষকের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব রেখেছেন।
জহিরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ২০১২ সালে শিক্ষক ফসিয়ার রহমান নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষককতা করাকালে তার মেয়ে ফারিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দিত ও উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং তা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মেহেরপুরে একটি স্কুলে বদলি করা হয়। সম্প্রতি তিনি সেখান থেকে বদলি হয়ে নড়াইল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এবং এবারের এসএসসি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ের প্রতি আক্রোশ থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষক পরীক্ষা চলাকালে তার প্রতি পরিক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির অন্য শিক্ষকদের কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিতেন ফারিয়ার। এমনকি বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষককে প্রাকটিক্যালে ফেল করিয়ে দেয়ার কথাও বলেছিলেন। নড়াইল বালক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিজ্ঞান বিভাগের ফিজিক্সে ৩২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সবাই প্রাকটিক্যালে ২৫ নম্বর করে পেলেও শুধু ফারিয়া কিভাবে ২৫ নম্বরের মধ্যে ১৫ নম্বর পেল তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার উত্তরপত্র কাটাকাটি করা, অতিরিক্ত পত্র ছিড়ে ফেলা, বহু নির্বাচনি পরীক্ষার সেট কোড পরিবর্তন করাসহ বিভিন্নভাবে পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাবিত করেছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, এসএসসির লিখিত পরীক্ষা শেষে নড়াইল বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষায় এক্সটারনাল ও ইন্টারনাল পরীক্ষক পূর্ণ ২৫ নম্বরই দেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বোর্ডের নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর অনলাইনে নির্ধারিত ফরমে এন্ট্রি করে বোর্ডে পাঠান। এতে ‘সুচতুর’ ফসিয়ার নড়াইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে ওই স্কুলের পিনকোর্ড (গোপন নম্বর) জানতেন। তিনি কৌশলে স্কুলের ওয়েবসাইডে প্রবেশ করে ফারিয়ার ফিজিক্সসহ কয়েকটি বিষয়ের নম্বর পিরবর্তন করে ১৫ নম্বর দেন।
তবে এসব অভিযোগ শিক্ষক ফসিয়ার অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই অনলাইনের পিনকোড জানেন। সে কারণে তাদের মধ্যে কেউ এ কাজটি করতে পারেন।’
এ ব্যাপারে নড়াইল সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মনিরা সুলতানা জানান, তিনি অভিযোগ পেয়েই রোববার (৩১ মে) শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি সভা করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে।
নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনি মোহন বিশ্বাস বলেন, ‘এত ভালো ছাত্রীর এ রকম ফলাফল হতাশা জনক। তাকে প্রত্যেক ব্যবহারিক পরীক্ষায় কেন্দ্র থেকে ২৫ নম্বর দেওয়া হলেও কম্পিউটরে ১৫ নম্বর দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা হবে।’
নড়াইলের জেলা প্রশাসক আব্দুল গাফফার খান বলেন, ‘মেয়েটি এবং তার পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব ও নড়াইল সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বোর্ড কন্ট্রোলারের সঙ্গে কথা বলেছি । প্রকৃত মার্কস এবং যে মার্কস পাঠানো হয়েছে তা যাচাই করে দেখা হবে এবং খাতা চ্যালেঞ্জ করা হবে। মেধাবী এই ছাত্রীর যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে সকলকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে।’
অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।