ঢাকাTuesday , 2 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শীর্ষস্থান কেলেঙ্কারি: নজরদারিতে নামিদামি স্কুল

Link Copied!

schoolনিজস্ব প্রতিবেদক : ‘নাম’ দিয়ে আর পার পাচ্ছে না রাজধানীসহ দেশের নামকরা স্কুলগুলো। প্রত্যেক স্কুলের প্রতি শ্যেন দৃষ্টি রাখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর তার জন্যই আগামী বছর থেকে সেরা স্কুলের তালিকা প্রকাশ করা বন্ধ হচ্ছে। সেই সঙ্গে ২০১৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা থেকে নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) পদ্ধতির প্রশ্নও থাকছে না।
তালিকায় শীর্ষে থাকার জন্য নামি স্কুলগুলোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা আর প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এসবের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রতিও কঠোর নজর রাখবে মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, তালিকার শীর্ষে থাকার জন্য নামিদামি স্কুলগুলোর মধ্যে প্রথম দিকে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকলেও, গত কয়েক বছর ধরে তা নোংরামিতে পর্যবসিত হয়েছে। শীর্ষ বিশে থাকার অভিলাষে স্কুলগুলো অষ্টম শ্রেণী থেকেই শিক্ষার্থী বাছাই করতে থাকে। পরে মাধ্যমিকের নির্বাচনী পরীক্ষায় কঠোরভাবে খাতা দেখেন শিক্ষকরা। সবকিছু শেষে ভালো ফল করবে- এমন নিশ্চয়তা মিললে তবেই একজন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
সেই সঙ্গে শীর্ষ বিশে অবস্থানের জন্য পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন বা এমসিকিউ প্রশ্নপত্র ফাঁস, সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর আগেই জানিয়ে দেয়া ও পছন্দের কেন্দ্রে নিজ প্রতিষ্ঠানের আসন ব্যবস্থা করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে অনুসন্ধান চালিয়ে উপরোক্ত অভিযোগগুলোর সতত্যাও পেয়েছে। যার জন্য ইতোমধ্যেই রাজধানীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্কুল বিএএফ শাহীন স্কুল, টঙ্গীর সফিউদ্দিন একাডেমি ও বরগুনার আমতলীর স্কুলের শিক্ষকদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এর জন্য তাদেরকে বহিষ্কার ও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। রাজধানীর ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজও পরপর কয়েকবার বেশ ভালো ফল করার গত দুই বছর থেকে আর সেরা তালিকার ধারেকাছে নেই।
এ বিষয়ে গত শনিবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমরা একটি সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছিলাম। মনে করেছিলাম, এর ফলে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। কিন্তু এ প্রতিযোগিতায় জিততে কেউ কেউ অনৈতিক পন্থা ব্যবহার করছে। এ কারণেই আগামীবার থেকে সেরা দশ বা সেরা বিশের কোনো তালিকা থাকছে না। তবে যারা ভালো ফল করবে তাদের অন্যভাবে প্রশংসিত করা হবে।’
ওই সংবাদ সম্মেলনে এবারের এসএসসিতে প্রথম হওয়া সামসুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনুসন্ধান করছি। এমন অনেক স্কুল এ তালিকাতে রয়েছে যাদের কথা কেউ ভাবতেও পারেনি। আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অভিযোগ পেয়েছি, তার যাচাই-বাছাই চলছে। কিন্তু এখনো পোক্ত প্রমাণ না মেলাই নাম প্রকাশ করবো না। তবে যে স্কুলের কথা আপনারা বলছেন, তাদের খোঁজ নেয়া হবে।’
স্কুলগুলোর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ থাকলে কী করবেন- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘শাস্তি হিসেবে এমপিও (বেতনের সরকারি অংশ) বাতিল করা হবে। যারা এমপিও নেন না বা নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না, তাদের স্কুলের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। এমপিও নেন না বলে, মনে করার কোনো কারণ নেই যে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। নিবন্ধন না থাকলে তারা স্কুলই পরিচালনা করতে পারবেন না। আমরা কঠোর হস্তে সকল অপকর্ম রোধ করবো।’
এ প্রসঙ্গে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, ‘এটা একটি ইতিবাচক প্রক্রিয়া। আশা করি, এতে পরীক্ষায় দুর্নীতি বন্ধ হবে।’
তিনি বলেন, ‘বোর্ডে স্থান পাওয়া নিয়ে এক ধরনের দুর্নীতি চলছে। টাকা দিয়ে স্থান করে নেয়া হচ্ছে। পছন্দমতো কেন্দ্র পরিবর্তন করে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। তবে যারা এটা করছেন তারা নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে করছেন। আমরা কোনোভাবেই নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে এরকম কাজ করবো না।’
এদিকে আগামী বছর থেকে এমসিকিউ পদ্ধতি বাতিল করার চিন্তা থাকলেও, নানা কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ২০১৭ সাল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় আর কোনো এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়াও পরীক্ষার আগে উত্তরসহ এমসিকিউ প্রশ্নপত্র ফাঁস হাওয়াটাও এর অন্যতম কারণ।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘এমসিকিউতে নির্ধারিত ৪০ নম্বর অতি সহজেই পাওয়া যায়। যার জন্য অসৎ উপায়ের দিকে ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা। আর তাদের এ কাজে সহায়তা করছে কিছু সংখ্যক দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষক। তাই প্রশ্ন উঠেছে এ ৪০ নম্বর পরীক্ষায় রাখা না রাখা নিয়ে। আমরাও ভাবতে বাধ্য হচ্ছি- আসলে এভাবে এটা রাখব কি রাখব না। তবে শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।’
এ পদ্ধতি বন্ধের দিনক্ষণ না জানালেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে এমসিকিউ পদ্ধতি আর থাকবে না। এর জন্য নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বেশ কিছু বৈঠকও হয়েছে। যার মধ্যে সর্বশেষ গত ১০ মে তারিখে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমসিকিউতে ৪০ নম্বরে বদলে ৩০ নম্বর করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অসাধু কিছু শিক্ষকের লাগামহীন প্রশ্নফাঁসে পুরো পদ্ধতিটিই বাতিল করতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়।
প্রসঙ্গত, পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারের অংশ হিসেবে দেশে ১৯৯২ সালে এসএসসি ও এইচএসসিতে প্রথম এমসিকিউ পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। ওই বছর থেকে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৫০ নম্বর এমসিকিউ ছিল। ২০১০ সালে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র পদ্ধতি চালু হলে ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকে ৪০ এবং বিজ্ঞানে যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা রয়েছে, সেগুলোতে এমসিকিউ পদ্ধতিতে ৩৫ নম্বর রাখা হয়।
এ বিষয়ে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দুর্নীতি রোধে এমসিকিউ পদ্ধতি বাতিলে চিন্তা-ভাবনা করছি। তবে এটা এখন পর্যন্ত শুধুই আলোচনা পর্যায়ে। শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।’