ঢাকাSunday , 31 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্লেষণ: মাধ্যমিকের ফল বিপর্যয়ের কারণ

Link Copied!

sscনিজস্ব প্রতিবেদক : দুই মাস ধরে পরীক্ষা। পিছিয়েছে প্রতিটিই। এক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন হয়েছে সূচি। বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল-অবরোধে এই ছিল চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার চিত্র। যার প্রভাব পড়েছে ফলাফলেও। সরকার প্রধান ও শিক্ষামন্ত্রী উভয়ই গতবারের থেকে এবারের ফলাফল ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ কমার জন্য শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই দায়ী করেছেন। তবে পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো গণিত ও উচ্চতর গণিত বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিকেও দায়ী করেছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে গণিতে পাসের হার সবচেয়ে কম। সেই সঙ্গে ইংরেজি ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলোও ফলে প্রভাব ফেলেছে। ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে ৯৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, গণিতে ৯২ দশমিক ৮০ শতাংশ, পদার্থ বিজ্ঞানে ৯৯ দশমিক ৫১ শতাংশ ও রসায়নে ৯৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
পাসের হারে শীর্ষে অবস্থান করা রাজশাহী বোর্ডে ইংরেজিতে ৯৯ দশমিক ০৫ শতাংশ, গণিতে ৯৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, পদার্থ বিজ্ঞানে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ ও রসায়নে ৯৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। সবচেয়ে খারাপ ফল করা সিলেট বোর্ডে ইংরেজিতে ৯৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, গণিতে ৮৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ, পদার্থ বিজ্ঞানে ৯৯ দশমিক ০১ শতাংশ ও রসায়নে ৯৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এ প্রসঙ্গে সিলেট বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান খান বলেন, ‘এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী গণিতে অকৃতকার্য হওয়ায় সিলেট বোর্ডের ফল খারাপ হয়েছে। প্রথমবারের মতো সৃজনশীল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষায় খারাপ ফলই সার্বিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। এর মূল কারণ, সব স্কুলে প্রশিক্ষিত গণিত শিক্ষকের স্বল্পতা রয়েছে।’ এসবের পাশাপাশি প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও হরতালের কারণেও প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।
একই বিষয়ে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, ‘এবার পরীক্ষা চলাকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতায় বারবার পরীক্ষা পেছানোর কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়েছে। এসব কারণে পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে চাপে ছিল। ফলে পরীক্ষার ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে চাপে থাকলেও এ কারণে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উদার হওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।’
গ্রামের ফলাফল শহরের তুলনায় খারাপ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহরে যেসব সুবিধা পাওয়া যায়, গ্রামে সেসব নেই। প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব আছে। এ কারণে স্বাভাবিকভাবে শহরের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থীরা খারাপ করেছে।’
এ বিষয়ে বরিশাল বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ শাহ আলমগীর বলেন, ‘হরতাল অবরোধ চলাকালীন এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার কারণে সিডিউলের পরিবর্তিত হয়েছে এবং পরীক্ষা সম্পন্ন করতে ১৩ দিন বেশি সময় লেগেছে। এতে করে পরীক্ষার্থীদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। অপরদিকে এবারে গণিতে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়া এ বিষয়ে ফল কিছুটা খারাপ হয়েছে। গেলবারের চেয়ে গণিতে ৯ দশমিক ৬ ভাগ কমে এবারে পাসের হার হয়েছে ৮৮ দশমিক ৪৬।’
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘গণিতে এবার প্রথম সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে। এতে পরীক্ষা খারাপ হতে পারে। এছাড়া টানা হরতাল অবরোধের মধ্যে এবার এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীদের মানসিক একটা ভীতি ছিল। এ কারণে ফলাফল খারাপ হতে পারে।’
একই প্রসঙ্গে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব আবদুস সালাম বিশ্বাস বলেন, ‘‌গণিতে যেহেতু প্রথম সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে। তাই পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে। এ বিষয়টি যাতে পরবর্তীতে না হয় এজন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রশ্ন ব্যাংক তৈরি করে বেশি বেশি সৃজনশীলতার চর্চা করার সুযোগ দেয়া হবে।’
সার্বিক ফলাফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা আর ‌প্রথমবারের মতো সৃজনশীল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষায় খারাপ ফলই সার্বিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষার্থীরা গণিতেই পরীক্ষায় বেশি ফেল করেছে।’