হাসান রেজা : দেশে প্রাণিরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নমুখী বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দেশে পশুপাখির বিভিন্ন রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকল্পে ৫৪ কোটি ৪৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০১২ সাল হতে শুরু হওয়া ‘প্রাণিরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ’ প্রকল্পটি চলতি বছর ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে বলে জানা গেছে। প্রকল্পের অধিকাংশ কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার পথে এবং অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে প্রকল্প অফিস।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রাণি ও প্রাণিজাত পণ্যের মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকে যাতে কোন ট্রান্সবাউন্ডারি (আন্তঃসম্পর্কিত) প্রাণিরোগসমূহ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। পাশাপাশি প্রাণিরোগসমূহের তথ্য সংগ্রহ করে একটি ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ইপিডিমিওলজি (রোগবিস্তার) ইউনিটকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধকরণেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে থেকে প্রাণিরোগ আসা বন্ধ করা, রোগ দমন ও নিয়ন্ত্রণ করে প্রাণিপালন ব্যবসা লাভজনক করার মাধ্যমে খামারি ও প্রাণিপালনকারীদের উৎসাহী ও উদ্বুদ্ধকরণেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে প্রকল্পটির মাধ্যমে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দর এলাকার ২৪টি স্থানে প্রাণিসম্পদ কোয়ারেনটাইন স্টেশন নির্মিত হচ্ছে। আধুনিক ও উন্নত অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি সজ্জিত এসব কোয়ারেনটাইন স্টেশনে আমদানিকৃত প্রাণি ও প্রাণিজাত পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার সকল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজধানীর শাহজালাল বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর, আইসিডি-কমলাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ ও রোহনপুর স্থলবন্দর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, ফেনীর বেলুনিয়া, পঞ্চগড়ের বাংলাবান্দা, লালমনিরহাটের বুড়িমারি, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা, কুমিল্লার বিবিরবাজার, সাতক্ষীরার ভোমরা, দিনাজপুরের হিলি, যশোরের বেনাপোল, সিলেটের তামাবিল, জকিগঞ্জ ও সুতারকান্দি, জামালপুরের কামালপুর, দিনাজপুরের বিরল, কক্সবাজারের টেকনাফ ও মৌলভীবাজারের বিটুলি স্থলবন্দর এবং মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসহ মোট ২৪টি কোয়ারেনটাইন স্টেশন নির্মাণের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে উল্লেখিত প্রকল্পের মাধ্যমে।
এসব কোয়ারেনটাইন স্টেশনের নির্মাণ কার্যক্রম ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রকল্প অফিস। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোহনপুর স্থলবন্দর, কুমিল্লার বিবিরবাজার, জামালপুরের কামালপুর, পঞ্চগড়ের বাংলাবান্দা ও যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কোয়ারেনটাইন স্টেশনের অফিস ভবন, আইসোলেশন শেড ও বাউন্ডারি ওয়ালের নির্মাণ কাজ শেষ এবং বর্তমানে তা হস্তান্তর পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
আখাউড়া, সোনামসজিদ, দর্শনা, ভোমরা ও হিলি স্থলবন্দরে কোয়ারেনটাইন স্টেশনের অফিস ভবন, আইসোলেশন শেড ও বাউন্ডারি ওয়ালের ৮০ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, ফেণীর বেলুনিয়া ও মংলা স্থলবন্দরে অফিস ভবন, আইসোলেশন শেড, বাউন্ডারি ওয়ালসহ টিউবওয়েল, মাটি ভরাট ও রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া তামাবিল, টেকনাফ, সুতারকান্দি ও জকিগঞ্জ স্থলবন্দরে অফিস ভবন, আইসোলেশন শেড ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রকল্প অফিস। এ ছাড়া প্রতিটি কোয়ারেনটাইন স্টেশন উন্নত ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও আসবাবে সজ্জিতকরণে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মালামাল ক্রয় করা হয়েছে প্রকল্পটির মাধ্যমে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিন দশকে দেশে পোল্ট্রিশিল্প ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হলেও এই শিল্পের অধিকাংশ উপকরণ এখনও আমদানিনির্ভর। প্রতি বছর এসব উপকরণ বিমানবন্দর, সমুদ্র বন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। এই শিল্পকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে কোয়ারেইন্টাইন স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা। তাদের মতে, এসব স্টেশনের মাধ্যমে জেনেটিক রোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গবাদি পশুর ক্ষুরা, তড়কা, পিপিআর, গোটপক্স প্রভৃতি রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব। এছাড়াও দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় কাঙিক্ষত ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

