লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পানির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। এক সময়ের এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম ফিশ হ্যাচারির ৬৯টি পুকুরের মধ্যে ৪৫টি পুকুরই শুকিয়ে গেছে। এতে রেণু সংরক্ষণ ও পোনা উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। ফলে প্রজনন কেন্দ্র থেকে চলতি মওসুমে মৎস্য চাষীদের চাহিদানুযায়ী রেণু ও পোনা সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
পুকুরে পানি স্বল্পতার কারণে মা মাছ ও রেণু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃত্রিম উপায়ে প্রজনন ঘটিয়ে রুই, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়া ও সিলভারকার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উন্নতমানের রেণু ও পোনা উৎপাদন করা হয়। পানির সঙ্কট ও বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের কারণে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে হ্যাচারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত রেণু ও পোনা উৎপাদনের মওসুম। কিন্তু চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অনেকেই রেণু ও পোনা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
প্রজনন কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রে ৬৯টি পুকুরের মধ্যে ৪৫টি পুকুর পানিশূন্য অবস্থায় আছে। বাকী পুকুরগুলোতে ছয় থেকে সাত ফুট পানি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছে দেড় থেকে দুই ফুট। এতে অল্প সময়ের মধ্যে রোদে পানি গরম হয়ে এখন ঝুঁকির মধ্যে আছে সাত টন ডিমওয়ালা মাছ। প্রতিটি মা মাছ থেকে মওসুমে তিন থেকে চার লাখ পোনা হয়। আর প্রতি কেজি রেণুতে প্রায় চার লাখ পোনা উৎপাদিত হয়।
চলতি মাসে প্রায় ৫০ কেজি রেণু পোনা মারা গেছে। সরকার চলিত মওসুমে ৭শ’ কেজি রেণু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে এই হ্যাচারিতে ২৬০ কেজি রেণু উৎপাদন ও বিক্রি হয়। কিন্তু পানি সঙ্কটের কারণে চলতি মওসুমে মাত্র ২শ’ কেজি রেণু উৎপাদন ও বিক্রি হয়।
বিদুৎতের লো-ভোল্টেজ ও পানি সঙ্কটে উৎপাদান ব্যবহত হওয়ার কারণে মৎস্য চাষীদের চাহিদা অনুযায়ী রেণু ও পোনা উৎপাদন করা সম্ভব নাও হতে পারে। এছাড়াও মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশ দিয়ে যাওয়া সেচ খালটি পানিশূন্য হয়ে পড়ায় কেন্দ্রের ভেতরের অধিকাংশ পুকুর শুকিয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এসএম মহিব উল্যা জানান, পানি সঙ্কটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পানি সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারলে মৎস্য চাষীদের চাহিদামতো রেণু ও পোনা সরবরাহ করা যাবে। এছাড়াও নতুন বসানো গভীর নলকূপে ত্রুটি দেখা দেয়ায় ঠিকাদারের বিল আটকে দেয়া হয়েছে এবং জরুরীভাবে নলকূপ মেরামতের জন্য বলা হয়েছে।

