লাইফস্টাইল ডেস্ক : শিশুদের তুলতুলে নরম ত্বকের যত্ন রাখা চাই সব সময়। বেশি গরম বা শীতে অপরিষ্কার ত্বকে খুব সহজেই একজিমা বা এটোপিক ডার্মাটাইটিস হতে পারে। এই ধরণের চর্মরোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য বেগ পেতে হয় অনেক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবশ্য ভালো ফল পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসার ঘটনাও কম নয়।
শিশুদের একজিমার প্রধান উপসর্গ হলো শরীরের বিভিন্ন স্থানে চুলকানি উঠে এবং চুলকায়। সাধারণত একজিমা কপাল, মুখ, হাত, পা ও ত্বকের ভাজে প্রথমে দেখা দেয়। তবে শরীরের অন্যান্য স্থানেও হতে পারে। অনেক সময় চুলকানো স্থান লাল হয়ে যায় এবং কিছুটা খসখসে হয়ে যায়। এমনকি আক্রান্ত স্থান থেকে তরল জাতীয় ফ্লুইড বের হতে পারে। শিশুদের এটোপিক ডার্মাটাইটিস ৫ বছর বয়সের মধ্যেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা দেয়। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসার মাধ্যমে এ ধরণের একজিমা অত্যন্ত ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে গরম গামাচি, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস ও সোরিয়াসিস এর সঙ্গে প্রায় একই রকম দেখা যায়। তাই সমস্যা নিরীক্ষণে ব্যঘাত ঘটে।
এটোপিক একজিমা চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমে কতগুলো অতিসাধারণ কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। আক্রান্তের ধরন বুঝে উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক, উপযুক্ত কোন স্টেরয়েড ব্যবহার, চুলকানোর জন্য এন্টিহিস্টামিন সেবন এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য কোনো ভালো ময়েশ্চারাইজার লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ঠিক করবেন কোন ধরণের ওষুধ শিশুর জন্য প্রয়োজন। এছাড়া নন ষ্টেরয়ডাল ক্রিমও দেয়া যায়। মনে রাখতে হবে ক্ষারযুক্ত সাবান, গরমপানিতে গোসল, সিনথেটিক কাপড়, এলার্জিক ফুড, আক্রান্ত শিশুর রোগের তীব্রতা বাড়াতে পারে।
তাই শিশুদের একজিমা প্রতিরোধে পিতামাতার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। শিশুর ত্বকে যে কোন ধরণের চুলকানি হলে প্রাথমিক অবস্থায় কোন ডাক্তারের কাছে না গিয়ে যে কোন ধরণের ময়েশ্চারাইজার লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। শিশুকে এলার্জিক ফুড যেমন- বেগুন, চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ খাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসায় যদি ভালো না হয় তবে অবশ্যই কোন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

