ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠিতে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের তিনটি উপজেলা শাখার সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করার দাবি করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। যোগ্য ও দলের জন্য ত্যাগী প্রার্থীকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চান তারা। তবে প্রার্থীরা তাকিয়ে আছেন শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য আমির হোসেন আমুর নির্দেশের দিকে। তিনি যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই নির্বাচন করবেন বলেও প্রার্থীরা মনে করেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ ১৮ বছর পর শুক্রবার (২২ মে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঝালকাঠি-২ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে লড়ছেন দুই ভাই। বর্তমান কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক সিকদার দীর্ঘ ১৮ বছর হাল ধরে আছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের। এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হয়েছে তারই ছোটভাই কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার। তবে এ নিয়ে দুই ভাই কিংবা তাদের সমর্থকদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়নি।
সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন চারজন। এর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান উজির, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা, স্থানীয় শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহামুদ হোসেন রিপন ও ব্যবসায়ী তরুণ সিকদার।
প্রার্থীরা চাইছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুণ যাকে চাইবেন তিনি হবেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালের ৩০ জুন কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
একইদিন বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। তবে এ উপজেলার চিত্র একটু ভিন্ন। দীর্ঘ একযুগ পর কাউন্সিলকে ঘিরে ইতোমধ্যেই পদপ্রত্যাশীরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ব্যাপক যোগাযোগের পাশাপাশি দলীয় হাই কমান্ডে জোর লবিং-তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন। তৃণমূলসহ দলের অনেক নেতাকর্মীই মনে করেন, অনেক বছর ধরে কাউন্সিল না হওয়ায় দলের মধ্যে কোনো শৃঙ্খলা নেই। তাই কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি নিয়ে অনেকটাই দল গোছানোর প্রত্যাশী স্থানীয় শীর্ষ নেতারা।
দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলে সভাপতি পদে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক স্থানীয় সাংসদ বজলুল হক হারুন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল আলম সরফরাজও সভাপতি পদ প্রত্যাশী। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সঞ্জিব কুমার বিশ্বাস, সাবেক জেপি সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিলন মাহমুদ বাচ্চু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিয়া হায়দার খান লিটন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান চন্দ্র শেখর হালদার প্রার্থী হয়েছেন।
প্রার্থীরা চাইছেন ভোটের মাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচত করুক, যাতে দলের মধ্যে কোনো কলহের সৃষ্টি না হয়।
অপরদিকে, শনিবার (২৩ মে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সাত বছর পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার খবরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। চলছে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে কর্মী সম্মেলন।
এ উপজেলায় সভাপতি পদে লড়ছেন বর্তমান সভাপতি তছলিম উদ্দিন চৌধুরী এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুস লস্কর। এরা দুজনেই শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আস্থাভাজন। দু’জনই তাকিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের এই কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকের নির্দেশের অপেক্ষায়। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম কবির ও স্থানীয় নাচনমহল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন আকন খোকন।
এছাড়া একইদিন নলছিটি পৌর আওয়ামী লীগেরও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি মো. মাছুদ খান, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. ফারুক হোসেন, কাউন্সিলর লুৎফর কবির প্রিন্স ও পৌরসভার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ডা. এসকেন্দার আলী খান। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে একজনই প্রার্থী হয়েছেন। তার নাম জনার্ধন দাস। তিনি বর্তমান কমিটিরও সাধারণ সম্পাদক। শিল্পমন্ত্রী প্রিয়ভাজন হওয়ায় তার পদে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না বলে জানা গেছে। এখানকার নেতাকর্মীরা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে জানিয়েছেন।
সর্বশেষ ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই জরুরি অবস্থার মধ্যে নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

