নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর দশমিনায় দেশের বৃহত্তম বীজ বর্ধন খামারের দিগন্তজোড়া মাঠ রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলের হাসিতে ভরে উঠেছে। চলতি রবি মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে খামারের প্রায় ৩৫৫ একর জমি আবাদ করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির ফলে খামারের উর্বর মাঠ এখন সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা।
ইতোমধ্যে আবাদকৃত মাঠের কিছু অংশ থেকে গম, আলু, মসুর, ছোলা, মুগ, ফেলন, সূর্যমুখী, তিল উত্তোলন করা হয়েছে এবং মাঠের বাকি অংশের ফসলও উত্তোলন পর্যায়ে রয়েছে। উত্তোলনকৃত এসব ফসল থেকে বীজ সংগ্রহের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া ১৯০ মেট্রিক টন বীজ সংগ্রহের লক্ষ্যে বোরো ধান কর্তনও শুরু হয়েছে। খামারে বোরো ধানের বাম্পার ফলন দেখে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ফসলটি চাষে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছে খামার কর্তৃপক্ষ।
খামার সূত্রে জানা গেছে, রবি মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের প্রায় ৩৪০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ লক্ষ্যে মৌসুমের শুরুতে খামারের ৩৫৫ একর জমিতে গম, ছোলা, মসুর, খেসারি, আলু, সূর্যমুখী, চিনা, সরগম ও কাউনের বীজ বপন করা হয়। খামারের ১০ একর জমিতে কার্ডিনাল জাতের আলু আবাদ করা হয়েছিল এবং ইতোমধ্যে ৫৫ মেট্রিক টন আলু সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬ মেট্রিক টন মসুর, ছোলা ও মুগ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ফসলের বীজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে খামার কর্তৃপক্ষ। খামারের ১৫০ একর জমিতে ব্রি ধান-২৮ আবাদ করা হয়েছে যা থেকে ১৯০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
বোরো চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের : দশমিনা বীজ বর্ধন খামারে বাম্পার ফলন দেখে স্থানীয় কৃষকরা বোরো চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে বলে জানা গেছে। দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনী আমিন খান দৈনিক পাঞ্জেরীকে জানান, খরচ কম ও লাভজনক হওয়ায় এই এলাকায় ডাল চাষ খুব জনপ্রিয়। ডালের বাজারমূল্যও অনেক বেশি। অন্যদিকে, বোরো চাষে খরচ বেশি হওয়ায় এ ধান আবাদে কৃষকরা তেমন একটা উৎসাহ দেখায় না। এমন পরিস্থিতিতে দশমিনা বীজ বর্ধন খামারে বাম্পার ফলন দেখে কৃষকরা বোরো আবাদে আগ্রহী হচ্ছে-এমন দাবি খামার সংশ্লিষ্টদের। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)’র তথ্যমতে, ২০১২-১৩ মৌসুমে পটুয়াখালী ও বরগুনায় ২১৪ মেট্রিক টন বোরো বীজ বিক্রি হয়। পরের বছর ১১২ মেট্রিক টন বিক্রি বেড়ে ৩২৬ মেট্রিক টন বোরো বীজ বিক্রি হয়। অর্থাৎ, বোরো চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে-বলছে বিএডিসি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বীজ বর্ধন খামারের উৎপাদিত বীজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদের চাহিদা যেমন মেটাচ্ছে তেমনি স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে, এই এলাকায় বোরো চাষে অনাগ্রহী কৃষক ফসলটি চাষে আকৃষ্ট হচ্ছে। খামারের দিগন্তজোড়া বোরো ধানের মাঠ, ফসলের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন তাদেরকে ফসলটি চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। অত্র এলাকায় বোরোর উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে আরো বেশি উৎপাদনের আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দশমিনার পাশে বাউফলের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন খান ২৫ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক পাঞ্জেরীকে জানান, ‘দশমিনা বীজ বর্ধন খামারে আমি বেশ কয়েকবার গিয়েছি এবং সেখানে আমি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেছি। ঐ খামারে ভালো ফলন দেখে আমি এই বছর ২৫ একর জমিতে বোরো চাষ করেছি। স্থানীয় কৃষকরাও বোরো চাষে আগ্রহী হচ্ছে।’ তবে বর্তমানে এলাকায় ইঁদুরের উপদ্রব অত্যন্ত বেশি এবং এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের আশু পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি।
প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান দৈনিক পাঞ্জেরীকে জানান, বাংলাদেশের কৃষি ও বীজ শিল্পে সর্বোচ্চ অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, বীজ বর্ধন খামারটি আমাদের কৃষি ও অর্থনীতিকে মজবুত ও শক্তিশালী করবে।


