নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রথমে ‘ভুল’ করে অন্যের মোবাইল ফোনে টাকা পাঠিয়ে সখ্যতা তৈরি। পরে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মুক্তিপণ দাবি। এরকমই একটি চক্রের ৬ সদস্যকে মঙ্গলবার রাজধানীর বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগ (ডিবি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আলাউদ্দিন (৩৫), মো. সেলিম (৩২) মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মো. এমদাদ (৩২), নিকুল (২৭) ও নারী সদস্য মোছা. মাসুমা (২৭)।
ডিএমপির মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, গত প্রায় এক মাস আগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি চেয়ারম্যান সাধন চন্দ্র দাসের মোবাইল ফোনে ২০০ টাকা ফ্ল্যাক্সিলোড দেন।
পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ফোন করে সাধনকে বলেন- ভাই ভুলক্রমে আপনার মোবাইলে ২শ’ টাকা চলে গেছে। টাকাটা ফেরৎ দিলে আমার উপকার হবে। চেয়ারম্যান টাকা ফেরৎ দেন। পরবর্তীতে আবারো ৩শ’ টাকা পাঠিয়ে একইভাবে ফেরৎ নেয়। টাকা ফেরৎ নিয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি চেয়ারম্যানের প্রশংসা করে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করে। এভাবে তাদের মধ্যে মোবাইলে কথাবর্তার মাধ্যমে সখ্যতা গড়ে ওঠে। সখ্যতার কারণে চেয়ারম্যন গত ৪ এপ্রিল ঢাকায় আসবেন জানালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার গাড়িতে চেয়ারম্যানকে ঢাকায় নিয়ে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
কথা অনুযায়ী নির্দিষ্ট তারিখে অজ্ঞাত ব্যক্তি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানা এলাকা থেকে চেয়ারম্যনকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে ঢাকার বাড্ডা থানা এলাকায় নিয়ে আসেন এবং ডিবি পরিচয় দিয়ে একটি ভবনের ৫ম তলায় নিয়ে তাকে আটকে রাখেন। দুর্বৃত্তরা প্রথমে তার কাছে থাকা নগদ ৮ হাজার টাকা নিয়ে নেন এবং পরে চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে আরো ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা নেন এবং আরো একলাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চেয়ারম্যান মুক্তি পান।
গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের বেশভূষা ধারণ করে মিথ্যা ডিবি পরিচয় দিয়ে প্রতারণামূলক ভাবে সাধারণ মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংঙ্কার ইত্যাদি সুকৌশলে হাতিয়ে নেয়।
তবে তিনি কোন এলাকার চেয়ারম্যান তা জানাতে অপারগতা জানায় পুলিশ।

