বাগেরহাটের মোংলায় আলোচিত মানবিক উদ্যোগ ‘এক বেলার মেহমানদারী’র কার্যক্রম, অর্থের হিসাব-নিকাশ ও সাম্প্রতিক অভিযোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত একদল স্বেচ্ছাসেবক। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে মোংলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠক সুজন, শুভ ও নুর নবী উদ্যোগটির কার্যক্রম থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মুখে একবেলা খাবার তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এ উদ্যোগটি দাতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে। অনুদানের হিসাব স্বচ্ছ রাখতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তথ্য প্রকাশ এবং খাতায় হিসাব সংরক্ষণ করা হতো বলে দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজার ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে গত ১২ অক্টোবর দাতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতিতে সুজনের কাছে থাকা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬ টাকা অজিয়ার শেখের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ওই অর্থ আমানত হিসেবে অজিয়ার শেখের মনোনীত এক ব্যক্তির কাছে রয়েছে এবং আয়োজনের মালামাল তাঁর বাসায় সংরক্ষিত আছে বলে জানান তারা।
অনুদান সংগ্রহে সুজনের বিকাশ নম্বর ব্যবহার এবং ফেসবুক পেজ পরিচালনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই বিকাশ নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ফেসবুক পেজ ও আইডিও এককভাবে কেউ পরিচালনা করতেন না। এ ছাড়া অজিয়ার শেখকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা তারা পাননি বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবকরা আরও বলেন, শেখ অজিয়ার রহমানই এ উদ্যোগের উদ্যোক্তা এবং তিনি এটি পরিচালনা করবেন—এ বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। উদ্যোগটির মানবিক লক্ষ্য অক্ষুণ্ন রেখে কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক, এটাই তাদের প্রত্যাশা।
সবশেষে সুজন, শুভ ও নুর নবী স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রকৃত তথ্য, অর্থের হিসাব-নিকাশ ও প্রমাণ যাচাই করে মতামত প্রকাশ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

