শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্যপ্রযুক্তিতে আধুনিক শিক্ষার্থীরা এখন অনেক দক্ষ; তাই তাদের সঠিকভাবে পাঠদান করতে শিক্ষকদেরও প্রযুক্তি ও এআই বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
আজ বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) ‘৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী পেছনের বেঞ্চে বসে থাকে এবং প্রশ্ন করার সাহস পায় না, তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ করে দেওয়াই একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব।’
শিক্ষা ও শিক্ষকমণ্ডলির সার্বিক উন্নয়নে গবেষণার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে আগামীর আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল শিক্ষককে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নবনিয়োগপ্রাপ্ত ৬১৩ জন কর্মকর্তা আট দিনব্যাপী এই ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশগ্রহণ করছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. সরদার মো. কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবি, মাউশি মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং আরডিএ বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হক।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি থেকে থাকে। কারণ, যেহেতু প্রশ্নপত্রের দুইটি সেট থাকে, একটি ব্যবহৃত ও অন্যটি অব্যবহৃত। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য যৌক্তিক সময় দিতে হবে। আমরা এই ফেল-এর লিগ্যাসি বছরের পর বছর টানতে চাইনা। সুযোগ পাওয়ার পরেও যারা অকৃতকার্য হবে তাদেরকে ভোকেশনাল শিক্ষায় স্থানান্তর করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী এরপর ‘১০০টি বিদ্যালয়ে খান একাডেমি, বাংলাদেশ-এর কার্যক্রমের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। এর মাধ্যমে বগুড়া, নেত্রকোনা ও কক্সবাজারে নতুন করে ১০০টি বিদ্যালয়ে খান একাডেমির শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। এরপর মন্ত্রী পল্লী উন্নয়ন একাডেমী ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।

