মহা দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্য নন্দ কুন্ডুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী কিছু ব্যবসায়ী। গত মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভোক্তভোগীরা। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, পতিত সরকারের স্বৈরাচার খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের ক্যাশিয়ার দুর্নীতিবাজ নিত্য নন্দ কুন্ডু তিনি গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বর্তমানে কর্মরত অছেন। তিনি একাধারে ভোলা, যশোর, চাঁদপুর, কুমিল্লা জেলায় কর্মরত ছিলেন। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্রের জামাতা নাছের বেগমকে ৪৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি উপহার দিয়ে জুনিয়র কর্মকর্তা হয়েও কুমিল্লার ডিসি হিসেবে পদায়ন পায়। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে , তিনি এ সকল জেলায় কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিটি বিলের বিপরীতে ৭%—১০% ঘুষের বিনিময়ে বিল প্রদান করতেন। তিনি কুমিল্লা ডিসি ফুড থাকা অবস্থায় ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষক সম্পাদক কুমিল্লা দক্ষিন থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী তিতাস ফুড কনজুমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ ইউনিট— ২ এর পাক্ষিক ছাটাইক্ষমতা নির্ধারন ও তালিকাভূক্তির ক্ষেত্রে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ২৪-০২-২০ তারিখের ১৩.০০.০০০০.০৪৬.৩৬.০০১,২০.৮৭ নং স্বারকের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে নির্দেশনার পরিপন্থি হওয়া সত্বেও তিতাস ফুড কনজুমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ ইউনিট—২ কে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেন ( তদন্ত প্রতিবেদন সুংযুক্ত)। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে ধান সংগ্রহের সময় শেষ দিনে পুনঃ বরাদ্ধকৃত ধান ক্রয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট খাদ্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের নিকট হতে অনৈতিক ভাবে প্রতি মেট্রিকটন ধানের ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৪ হাজার টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করেন। পরবর্তী উক্ত ধান ছাটাইয়ের সময় আগ্রহী সংশ্লিষ্ট মিলারদের নিকট হতে ধান বরাদ্ধ প্রদানের সময় প্রতি মেট্রিক টন ১ হাজার টাকা হারে ঘুষ গ্রহণ করেন। সর্বোপরি ধান ছাটাই বিল হতে ৭% হারে ঘুষ গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও সার্বক্ষনিক ভাবে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অনিয়মের দোহাই দিয়ে তাদের তটস্থ করে অযাচিত ভাবে টাকা আদায় করতেন । দুর্নীতিবাজ এই জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অতিরিক্ত সংগ্রহের ৫ হাজার মেট্রিক টন ধান হতে ২ হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করেন। এক দিনের মধ্যে ২ হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ কি ভাবে সম্ভব তার সুনির্দিষ্ট কোন যৌতিক সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি তদন্ত করলে সংগ্রহ চাল ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠবে। এই দুর্নীতিবাজ অফিসার প্রতি মেট্রেক টন ধান সংগ্রহের বিপরীতে ২ হাজার টাকা উৎকোচ সংগ্রহের মাধ্যমে সংগ্রহ করে থাকেন। জানাগেছে, এই ঘুষের একটি অংশ খাদ্য অধিদপ্তরের বড় কর্মকর্তা ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের দিয়ে ম্যানেজ করে থাকেন।
পতিত স্বৈরাচার সরকারের সানিধ্যে থেকে দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়েছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং সেই অবৈধ টাকায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে ৫ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। বর্তমানে পতিত সরকারে খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের পরিবারের লোকদের আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে ভোক্তভোগী ব্যবসায়ীরা এই মহা দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর পতিত ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্য নন্দ কুন্ডুর বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উৎঘাটন করার জোর দাবি জানায় ভোক্তভোগী ব্যবসায়ীরা । এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্য নন্দনের সাথে তার মঠোফোনে যোগাযোগ করেলে তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন।

