ঢাকাSunday , 9 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তামাক মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর আইন মানছে না অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান

Link Copied!

তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেওয়ার হার গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী মোড়কের নির্ধারিত ৫০ শতাংশ স্থানজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী রয়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশ মোড়কে।

এছাড়া ৭৩ শতাংশ মোড়কের উভয় পাশে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী পাওয়া যায়নি। ট্রেড লাইসেন্স, উৎপাদনের তারিখ, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি) ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও মোড়কজাতকরণ বিধিমালা অনুসরণে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আইন অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়ন: বর্তমান অবস্থা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট, টিসিআরসি ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

গবেষণায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে ৩৯৪টি তামাকজাত পণ্যের মোড়ক পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর ধারা ১০ এবং পণ্য মোড়কজাতকরণ বিধিমালা, ২০২১-এর সংশ্লিষ্ট বিধানকে পর্যবেক্ষণের সূচক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণায় উঠে আসা সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার ও আইন লঙ্ঘনকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের সদস্য ও ‘সেতু’র প্রকল্প পরিচালক শাগুফকা সুলতানা। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ও নীতি বিশ্লেষক সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, কালের কণ্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক নিখিল ভদ্র, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী এবং বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের নেটওয়ার্ক অফিসার আজিম খান। টিসিআরসির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফারহানা জামান লিজার সঞ্চালনায় এসময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিসিআরসির প্রকল্প কর্মকর্তা বিভূতী ভূষণ মাহাতো।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিভূতী ভূষণ মাহাতো বলেন, তামাকজাত পণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত আকার ও অন্যান্য শর্ত মেনে দেওয়া হচ্ছে না। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৮ শতাংশ মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী থাকলেও মাত্র ৩৭ শতাংশ মোড়কে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ৫০ শতাংশ স্থানজুড়ে সতর্কবাণী রয়েছে। বিশেষ করে জর্দা, গুল ও বিড়ির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক। ২৯৭টি জর্দার মোড়কের মাত্র ২৮ শতাংশে এবং ২০টি গুলের কোনো মোড়কেই নির্ধারিত ৫০ শতাংশ স্থানজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী পাওয়া যায়নি। এছাড়া ৭৩ শতাংশ মোড়কের উভয় পাশে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, তামাকজাত পণ্যের মোড়কে বাধ্যতামূলক তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। ৩৯৪টি মোড়কের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য এবং ৫৫ শতাংশে উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ ছিল। ৮০ শতাংশ মোড়কে ট্রেড লাইসেন্স নম্বরও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ব্র্যান্ডের নাম বা স্ট্যাম্প দিয়ে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী আংশিকভাবে ঢেকে রাখা, খোলা তামাক ও খুচরা শলাকা বিক্রি এবং নিম্নমানের মোড়ক ব্যবহারের মতো অনিয়মও গবেষণায় উঠে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের দুর্বলতাকে এসব অনিয়মের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, টিসিআরসি ২০১৬ সাল থেকেই প্রতিবছর এই গবেষণা পরিচালনা করে আসছে। এই গবেষণার ফলে তামাক কোম্পানি আগে অবৈধভাবে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করতো, সেটি দেওয়া বন্ধ করেছে। এছাড়া ধাপে ধাপে এই গবেষণার ফলে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণের হার বৃদ্ধিসহ আরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। নতুন বিধিমালা প্রণয়ণে এই গবেষণার ফলাফল ভূমিকা রাখবে।

শাগুফতা সুলতানা বলেন, নতুন সংশোধিত আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন করে ৭৫ শতাংশ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী যেন আইন অনুযায়ী মোড়কের ওপরে মুদ্রণ করা হয় সেটি নিশ্চিত করা হবে।

গাউস পিয়ারী বলেন, ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের মোড়কে আইন বাস্তবায়নের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। জর্দা ও গুলসহ এসব পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণকে কার্যকর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্রুত ও দৃশ্যমান আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অনিয়মগুলো গণমাধ্যমে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন।

নিখিল ভদ্র বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে গবেষণালব্ধ তথ্য নীতিনির্ধারণ, আইন বাস্তবায়ন ও গণসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের গবেষণার ফলাফল নিয়মিতভাবে প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, তামাকজাত পণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকলেও আইন নির্ধারিত আকার, অবস্থান, পরিবর্তনের সময়সীমা এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে আইন বাস্তবায়নের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য।

গবেষণায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ১০-এর কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা, বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে দ্রুত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং চালু করা, খুচরা শলাকা, খোলা তামাক ও পানের সঙ্গে জর্দা বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আইন লঙ্ঘনকারী তামাকপণ্য জব্দ ও ধ্বংস করা, সব তামাক কোম্পানিকে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অধীনে নিবন্ধনের আওতায় আনা, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা, উৎপাদনের তারিখ, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক তথ্য সঠিকভাবে মুদ্রণ নিশ্চিত করা।

সম্মেলনে বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।