বাগেরহাটের মোডেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরন ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি প্রার্থী লাভলু ফরাজীকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা চুরি মামলায় আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অনতিবিলম্বে লাভলু ফরাজির মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা। লাভলু ফারাজি উপজেলার খারইখালি এলাকার বারেক ফারাজির ছেলে। তিনি জাতীয়তাবাদী দলের কট্টর সমর্থক হওয়ায় স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকা ছাড়া ছিলেন। স্ত্রী রুবিয়া আক্তার অভিযোগে বলেন, গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় মৎস্য খামার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বাড়ির সামনে থেকেই মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। সকালে জানতে পারি তাকে একটি চুরি মামলায় আসামি করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সে জীবনেও চুরি তো দূরে থাক কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করে না। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তিনি। এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও ১৫ কিঃমি দূরের থানা পুলিশ তাকে আটক করেছে। অজ্ঞাতনামা একটি মামলায় তাকে চালান দিয়েছে। থানা পুলিশ খুবই খারাপ ব্যবহার করেছে আমাদের সাথে। লাভলু ফারাজির মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান রুবিয়া আক্তার। স্থানীয় সাবু ফরাজি, আব্বাস শেখ, শেখ সাইফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ফরাজী, পারভিন বেগম, নাজমা আক্তার, পারুল বেগমসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী সমর্থকেরা বলেন, লাভলু ফরাজি একজন পরোপকারী ব্যক্তি। সে চুরি করবে একথা কল্পনাও করা যায় না। ১৮ জুলাই পঞ্চকরন ইউনিয়নে বিএনপির সমাবেশ ছিল। এই ইউনিয়নের অনেক বিএনপি নেতার কুকীর্তি ও দুর্নীতি ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। সে কারণেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন তিনি। ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা ও লাভলু ফরাজির দ্রুত মুক্তির আবেদন জানান তারা। মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৮ জুলাই ভাষান্দল এলাকার আউয়াল তালুকদারের ছেলে মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের প্রতিষ্ঠান “সেবা মেডিকেল হল” চুরির ঘটনায় অজ্ঞাত আসামী দিয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা নং ১০, ধারা ৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড রুজু করেন। সাক্ষীদের তালিকায় যারা রয়েছেন প্রত্যেকেই মোড়েলগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা। মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্র) শেখ মাহফুজুর রহমান। মোড়েলগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা সুজাউদ্দিন সুজা জানান, লাভলু ফারাজি একজন নির্যাতিত যুবদল কর্মী। তাকে ষড়যন্ত্র করে চুরি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অনতিবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার, ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার ও লাভলুর মুক্তির দাবি জানান এই যুবদল নেতা। মোড়লগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান বলেন, লাভলু ফরাজির বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে লাভলু ফরাজিকে আটক করা হয়। একদিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মিথ্যা মামলায় হয়রানির কোন সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

