কুমু বেগম নামে এক নারী জাহাঙ্গির লতিফ এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও বেতন বঞ্চনার অভিযোগ এনে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
লিখিত অভিযোগে কুমু বেগম দাবি করেন, শৈশব থেকে তিনি জাহাঙ্গির লতিফের পরিবারের অধীনে কাজ করতেন। তাকে কাজের বিনিময়ে নিয়মিত বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বকেয়া পাওনা চাইলে তাকে মারধর করা হতো এবং বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জাহাঙ্গির লতিফ তাকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেছেন। এক পর্যায়ে তাকে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে একা ফেলে রাখা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া জাহাঙ্গির লতিফের দুই কন্যা জেবা রাইসা ও দিয়া রাইসার বিরুদ্ধেও তাকে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন কুমু বেগম।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় কামরুন নাহার নামে এক নারী তাকে আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেন। কুমু বেগমের দাবি, তাকে কখনও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। এমনকি তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন তৈরির ক্ষেত্রেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কুমু বেগম আরও অভিযোগ করেন, তিনি একাধিকবার কাফরুল থানায় গিয়ে সহায়তা চাইলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো ন্যায়বিচার পাননি এবং আদালতের দ্বারস্থ হয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার মেলেনি।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, বিচার না পেয়ে তিনি চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তার বকেয়া পাওনা আদায় এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গির লতিফ, জেবা রাইসা ও দিয়া রাইসার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো কুমু বেগমের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই সাপেক্ষ।

