ঢাকাMonday , 18 May 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দরবনের অভিযানে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৬ দস্যু আটক

Link Copied!

কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” ও “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” আরো জোরদার করা হয়েছে। এ অভিয়ান ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সুন্দরবনের বনদস্যুরা ক্রমেই কোনঠাসা হয়ে পড়ছে। গত ১০০ ঘন্টার ব্যবধানে তারা জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীরসহ করিম- শরিফ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ৫ সদস্যকে আটক করেছে। এই ৬ দস্যুর কাছে থাকা দেশী বিদেশী ৯ টি আগ্নেয়াস্ত্র ৭৮ রাউন্ড তাজাগুলি, ১টি এয়ারগান ও ৪ টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা ৮ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন মংলার পৃথক পৃথক প্রেস ব্রিফিং এ এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক ব্রিফিং এ বিসিজিএস তৌফিক এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন জানান, গোপন সূত্রে জানা যায়, দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরিফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের ঢাংমারি খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এখবরের প্রেক্ষিতে রবিবার ১৭ মে ভোর রাতে ঐ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঐ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড রাজন শরীফ ও রবিউল শেখকে আটক কর হয়। তাদের কাছে থাকা একটি বিদেশী এক নলা বন্দুক, ২টি দেশী একনলা বন্দুক ও ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তাদের হাতে জিম্মি থাকা ৪ জেলেকে ও উদ্ধার করা হয়। আটক রাজন শরীফের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ ও রবিউল শেখের বাড়ি রামপাল উপজেলায়। এর আগে শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে এমন খবরের ভিত্তিতে ১৩ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত কোস্টগার্ড সদস্যরা ওই এলাকা ঘিরে ফেলে। এ সময় বনদস্যুরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে গুলিবর্ষণ শুরু করলে কোস্ট গার্ড ও পাল্টা গুলি চালায়। গুলির মুখে পরাস্ত হয়ে দস্যুরা পালানোর সময় কোস্ট গার্ড ঐ বাহিনীর৩ সদস্যকে আটক করে। এ সময় তাদের সাথে থাকা ৩টি একনলা বন্দুক, একটি দেশী পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি এয়ারগান, দুইটি ওয়াকি টকি ও ৪টি চার্জার উদ্ধার করা হয়। আটক বনদস্যু মেহেদী হাসান রমজান শরীফের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ও এনায়েতের বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়।
১২ মে ভোররাতে সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট ক্যাম্প সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মেঝ জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। এ সময় তার সাথে থাকা দুটি বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক বনদস্যু বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর নড়াইল জেলার নড়াগাতী এলাকার বাসিন্দা। ১৩ মে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সিংগার টেক এলাকায় বনরক্ষীদের সাথে করিম শরীফ বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে দস্যুরা পরাস্ত হয়ে পালিয়ে গেলে বনরক্ষীরা ঘটনাস্থল থেকে একটি এক নলা বন্দুক ও এখন তাজা গুলি উদ্ধার করে। এ সময় দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা হাত জেলেকে উদ্ধার করে বনরক্ষীরা। কোস্টগার্ডের অভিযান ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সুন্দরবনের দস্যু বাহিনী গুলো এখন অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা। সুন্দরবনে সাম্প্রতিককালে দস্যুদের উত্থানের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ কোট গার্ড অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড ও অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন নামে এই অভিযান দুটি শুরু করে।
সুন্দরবনের দস্যু নিধন না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কোস্ট গার্ডের ওই কর্মকর্তা জানান।